Floating Facebook Widget

বাস্তবায়িত হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা - Deshi News

১৪ মে, ২০১৯,মঙ্গলবার,দেশীনিউজ: প্রধানমন্ত্রীর সচিব সভায় দেয়া গুরত্বপূর্ণ অনেক নির্দেশনা বছরের পর বছর বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ২০১৪ সালে কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন করার নির্দেশনা গত ৬ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মতো সচিব সভায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এখনো এর দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। তবে এরই প্রস্তুতি ও আলোচ্য সূচী ঠিক করতে গত রোববার সচিব সভা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঈদের পরপরই সচিব সভায় আসবেন। তবে এখন পর্যন্ত এর সময়সূচী ঠিক হয়নি। সকল মন্ত্রণালয়ের সমস্যা ও সম্ভবনাগুলোকে সামনে রেখে আলোচ্যসূচী ঠিক করতে সকল মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরই আলোকে প্রস্তাবনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা পড়ছে। প্রশাসনকে আরো জনবান্ধব ও হয়রানি মুক্ত করতে নতুন নতুন ধারণায় (ইনোভেটিভ আইডিয়া) আলোচ্যসূচী ঠিক করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।


যাতে গতানুগতিক বিষয়াদি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আলোচনায় বেশি সময় ব্যয় করতে না হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল ৭/৮টি প্রস্তাব এবারের সচিব সভায় পাঠিয়েছেন। ওই মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে চাকরি প্রার্থীদের চাকরির জন্য আবেদন করতে হবে না। চাকরি প্রার্থীদের একটি ওয়েব সাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ওই ওয়েব সাইটে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ যাবতীয় বৃন্তান্ত থাকবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েব সাইট থেকে তার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেবে। একজন যুবক কোনো ধরনের দৌড়ঝাঁপ ছাড়াই বাড়িতে বসে নিয়োগপত্র পাবেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়োগে ১৭৮টি পদের বিপরীতে ১ লাখ ৯২ হাজার আবেদন পড়েছে। এইসব আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগকে দুই কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা, ভাইবা ও প্রাকটিক্যাল করতে প্রার্থীদের বারবার ঢাকায় আসতে হচ্ছে। তাদের আবেদন ফিসহ যাতায়াতে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বেকার যুবককে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে পরিকল্পিত আবাসন, বাড়িঘর তৈরি, উন্নয়নমূলক কাজ এবং শিল্প-কারখানা বা রাস্তাঘাট নির্মাণের কারণে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। ২০১৪ সালের জুনে কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন করতে ভ‚মি মন্ত্রণালয়কে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৬ বছরে এই আইন আলোর মুখ দেখেনি। যার ফলে কৃষি জমিতে পরিকল্পিত আবাসন, বাড়িঘর, শিল্প-কারখানা ও রাস্তাঘাট নির্মিত হচ্ছে। আইনের অভাবে কোনোভাবেই এসব ঠেকানো যাচ্ছে না। কৃষি জমির কোনো সুরক্ষা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের উচ্চস্থ একজন জানান, কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন, ২০১৬ এর একটি খসড়া করা হয়েছে। ওই সময়ে জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত আইনটির খসড়া ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছিল। এরপর আইনটি চূড়ান্ত করতে আর কোনো কাজ করা হয়নি। কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন, ২০১৬ এর খসড়ায় শুরুতে বলা হয়, ‘যেহেতেু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে পরিকল্পিত আবাসন, ঘরবাড়ি তৈরি, উন্নয়নমূলক কাজ এবং শিল্প কারখানা বা রাস্তাঘাট নির্মাণের কারণে প্রতিনিয়ত ভ‚মির প্রকৃতি ও শ্রেণিগত ব্যবহারে পরিবর্তন হইতেছে, দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি জমি, বনভূমি, টিলা, পাহাড়, জলাশয়/শ্রেণিমহাল বিনষ্ট হইয়া খাদ্য শস্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়িতেছে এবং পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটিতেছে।

ফলে অপরিকল্পিত বাড়িঘর, শিল্প কারখানা, রাস্তাঘাট তৈরি রোধ করিয়া ভূমির শ্রেণি বা প্রকৃতি ধরিয়া রাখিয়া পরিবেশ ও খাদ্য শস্য উৎপাদন অব্যাহত রাখিবার উদ্দেশ্য এবং কৃষি জমি ও কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগিক সুবিধার সুরক্ষাসহ ভূমির পরিকল্পিত ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সমীচীন।

দেশীনিউজ/আবদুল মোতালেব মজুমদার/করসপনডেন্ট


রাজনীতি