Floating Facebook Widget

নকল তারে বাড়ছে শর্টসার্কিটের অগ্নিকাণ্ড - Deshi News

৭ এপ্রিল ২০১৯,রবিবার,দেশীনিউজ: দেশে অগ্নিকাণ্ডের সিংহভাগই হয় বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবন নির্মাণে অতি মুনাফার আশায় নিম্নমানের তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করায় শর্টসার্কিটের দুর্ঘটনা বাড়ার কারণ। এদিকে দেশের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বেচাকেনার এলাকার (কাপ্তান বাজার) প্রতিটি দোকানেই পাওয়া যায় স্বনামধন্য কেবল কোম্পানির নকল বৈদ্যুতিক তার। এমনকি কোনো কোনো দোকানে কোম্পানির স্টিকার দেয়া থাকলেও সে স্টিকারও নকল করে সাঁটানো হয় তারের কয়েলে।

এসব নকল তারের ভোক্তা কারা এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রেতারা জানান, যেসব কোম্পানি ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকেন, তারাই অতি লাভের আশায় মানের সাথে সমঝোতা করেন। অন্যদিকে, নিখুঁতভাবে নকল হওয়ায় মূল ভোক্তাও বুঝতে পারেন না আসল নকলের ফারাক। বিক্রেতারাও জানান, এসব নকল তারে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি বেশি।

বিক্রেতারা বলেন, এক নম্বর, দুই নম্বর, তিন নম্বর যাই বিক্রি হয় শো রুমে, কারখানা তা বিক্রি করবে না। অরিজিনাল নিলে ঠকার সম্ভাবনা থাকতে পারে দু’নম্বর দিয়ে দিবে। কিন্তু দু’নম্বর নিলে ঠকার সম্ভাবনা থাকে না।

বিষয়টি নিয়ে বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে গেলে তারা জানান, মানসম্পন্ন তারে উল্লেখ থাকা মান, নকল তারের ক্ষেত্রে মানা হয় না। ফলে যে অ্যাম্পিয়ার বা লোড নেয়ার ক্ষমতা তারের থাকতে হয় তা না থাকায় অধিক লোডের বৈদ্যুতিক জিনিস ব্যবহারের কারণে শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে।

বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শফিকুর ইসলাম বলেন, আমরা যখন একটা বিল্ডিং করি তখন ক্যালকুলেশন করেই আমাদের ক্যাবল চয়েস করতে হয়। আমরা সার্কিট টেস্ট করি, টেস্ট করে এমন সার্কিট পেয়েছি যে নিজেই সে পুড়ে যাচ্ছে কিন্তু সার্কিট ব্রেক করতে পারছে না।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সারাদেশে অগ্নিকাণ্ড ঘটে মোট ১৯ হাজার ৬৪২টি। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮২৫টি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ছিল বৈদ্যুতিক ত্রুটি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ব্যবহারকারীর বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকেই এসব অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট এসব আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এছাড়া এসব অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৫৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার সমপরিমাণ সম্পদ।

জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুত্সুদ্দী বলেন, বাসাবাড়ি কিংবা বাণিজ্যিক ভবনগুলোয় ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা নেই ব্যবহারকারীর মধ্যে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক কারণই সবার উপরে উঠে এসেছে। এখন থেকে সতর্ক না হলে আগামীতে বৈদ্যুতিক কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আরো বাড়বে।

ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাসাবাড়িতে ইন্টেরিয়র পরিবর্তন কিংবা রঙ করা হয়। কিন্তু বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কোনো পরিবর্তন হয় না। ভবন নির্মাণের সময় যে কেবল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি যুগের পর যুগ ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া এ দেশের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনও নানাভাবে ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় সড়ক ও ভবনসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে। ফলে বৈদ্যুতিক কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে। যেকোনো পণ্যের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকলেও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার অনুপযোগী না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয় না। এসব কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনের অন্য ঝুঁকির সঙ্গে সমন্বয় করে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও পরিবর্তন কিংবা তদারক প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (চট্টগ্রাম) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ ভবনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এগুলো অগ্নিঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি ভবনের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষের বসবাস, অতিরিক্ত আসবাব ও ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার আগুনের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে। অগ্নিনিরাপত্তায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে এসব সমস্যারও সমাধান করতে হবে।

দেশীনিউজ/রফিকুল ইসলাম দুলাল


অন্যান্য খবর