Floating Facebook Widget

কষ্টের সঞ্চয় পুড়ে ছাই - Deshi News

৩০ মার্চ ২০১৯,শনিবার,দেশীনিউজ: ঢাকায় বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত না শুকাতেই আগুনে পুড়লো পাশের এলাকা গুলশান ১ নম্বরের ডিএনসিসি মার্কেট লাগোয়া কাঁচাবাজার। শনিবার ভোরে আড়াই ঘণ্টার এই অগ্নিকাণ্ডে ওই কাঁচাবাজারের দেড়শোর মতো দোকানের সবগুলোই ভস্মীভূত হয়েছে।


মার্কেটে প্লাস্টিক সামগ্রী ও কাপড়ের দোকান ছিল আমেনা বেগমের। তিনি শুক্রবার আড়াই লাখ টাকার পণ্য এনেছেন। আর শনিবার সকালেই আগুনে সব পুড়ে ছাই।আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক লিটন জানান, প্রায় কোটি টাকার মালামাল ছিল লিটনের। এই মার্কেটে তার ছিল ৮টি দোকান। যেসব দোকান ছিল মুদি দোকান। ছিল বেবি ফুড, তেল, চাল, ডাল, মশলা ইত্যাদি। তিনি বলেন, তার প্রায় কোটি টাকার মালামাল ক্ষতি হয়েছে। নিঃস্ব, ফকির হয়ে গেলাম। আর মাথা তুলে দাড়াতে পারব না। ব্যাংকে লোন আছে আমার।

শনিবার বিক্রি করতে শুক্রবার রাতে ৬০ হাজার টাকার মাছ এনেছেন সজিব মিয়া। এই টাকার মধ্যে ৪০ হাজার টাকাই ধারে। এই মাছের সঙ্গে জ্বলে গেছে সজিব মিয়ার স্বপ্নও।

শুধু সজিব মিয়া, আমেনা বেগম, লিটন নন এরকম অন্তত দেড়শো ব্যবসায়ীর দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটে। যাদের সকলেই প্রায় সর্বশান্ত। দিকবিদিক ছুটছেন তারা, কি করবেন এখন?

আগুনে কাঁচাবাজারের সামনের পাঁচ তলা গুলশান শপিং সেন্টারের কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার লাগোয়া গুলশান ১ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেট তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছিল গুলশান ১ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেট। তখন দোতলা মূল বিপণি বিতানের পাশের কাঁচাবাজারও সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল। তারপর ওই বাজারটি নতুন করে গড়ে তোলার দুই বছরের মধ্যে আবার তা পুড়ে গেল।


শনিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে কাঁচাবাজারটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তা নেভাতে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।

তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের ডিউটি অফিসার আলমগীর হোসেন তখন বলেন, ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগে। আমাদের ১৫ টি ইউনিট কাজ করছে। ইউনিটের সংখ্যা বাড়তে পারে।


এরপর ফায়ার সার্ভিসের ২০টির মতো ইউনিটের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও যোগ দেন আগুন নেভানোর কাজে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক এনায়েত হোসেন বলেন, আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও কাঁচাবাজার অংশ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দোকানে ঢুকে ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছিল, বেরিয়ে আসছিল পোড়া মাছ-মুরগি, বিভিন্ন রকম খাদ্যপণ্যের ক্যান।

গুলশান ১ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেটের দোতলা ভবনের পূর্ব পাশঘেঁষে লোহার কাঠামোর উপর টিন দিয়ে গড়ে ওঠা এই কাঁচাবাজারে মাংস ও মাছের দোকানের পাশাপাশি মুদি ও সুগন্ধীর দোকান ছিল। আমদানি করা খাদ্যপণ্য ও প্রসাধনীর অনেক দোকানের পাশাপাশি প্লাস্টিকের খেলনার দোকানও ছিল সেখানে। তার একটিকেও অক্ষত দেখা যায়নি।


এই কাঁচাবাজারে দেড়শর মতো দোকান ছিল বলে ডিএনসিসি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস এম তালাল রিজভী। তিনি বলেন, কোনোটিই আর নেই। সবগুলো পুড়ে গেছে। তবে তাদের দোতলা বিপণি বিতানটি অক্ষত রয়েছে বলে জানান রিজভী। দোতলা মূল বিপণি বিতানে দোকান রয়েছে ২৩৪টি।

অগ্নিকাণ্ডে কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডস্থলে উৎকণ্ঠা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন দোকানি জানিয়েছেন, রাতে দোকানগুলোতে কেউ থাকে না, বাজারের কলাপসিবল গেইটে তালা মেরে পাহারাদাররাও বাইরেই থাকেন।

কাঁচাবাজারের সামনে পাঁচ তলা গুলশান শপিং সেন্টারেও আগুন ছড়িয়েছিল। সেখানে দোতলার বেশ কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিপণি বিতানে রয়েছে, হার্ডঅয়্যারের দোকান, হার্ডঅয়্যারের দোকান, বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান।


কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ধারণা, কাঁচাবাজারের সুগন্ধীর কোনো দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছেন। তারা বলছেন, দুই বছর আগে অগ্নিকাণ্ডের পর তেমন সহায়তা পাননি তারা, নিজের চেষ্টায়ই উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মামলা জটিলতার কারণে এখানে স্থায়ী একটি মার্কেট গড়া যাচ্ছে না। মামলা নিষ্পত্তিতে উদ্যোগ এখন নেবেন তিনি।

আগুন লাগার পর উদ্ধার কাজের জন্য গুলশান-১ নম্বর সংলগ্ন সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

দেশীনিউজ/আবদুল মোতালেব মজুমদার/করসপনডেন্ট


অন্যান্য খবর