Floating Facebook Widget

লাগামহীনভাবে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য : রমজানপূর্ব মজুদদারিতে কারসাজি - Deshi News

২৩ মার্চ ২০১৯,শনিবার,দেশীনিউজ:ঢাকার বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। দাম বৃদ্ধির ধারা গত দু’মাস ধরে অব্যাহত থাকলেও বেশি বেড়েছে গত দুই সপ্তাহে। দাম বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, বিভিন্ন প্রকারের ডাল, গরু, মুরগি, খাসির গোশত এবং বিভিন্ন প্রকারের মসলা। নিত্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য পাইকাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের এবং খুচরা বিক্রেতারা পাইকারদের দায়ী করলেও মূলত বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের মজুতদারি বৃদ্ধির কারণেই বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকায় গতকাল প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২২ থেকে ২৮ টাকা। এক মাস আগে একই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। টিসিবির হিসেবেই এক মাসের ব্যবধানে দেশী পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। এক মাস আগে ৪০ থেকে ৯০ টাকাদরে বিক্রি হওয়া রসুন গতকাল ৫০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানায় টিসিবি। এক মাসে দাম বেড়েছে ২৩ দশমিক শূন্য আট শতাংশ।
টিসিবির হিসেবে গত এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম দুই দশমিক ৯৪ শতাংশ, ময়দা এক দশমিক ২২ শতাংশ, ডাল দুই দশমিক ৪৪ শতাংশ, ছোলা তিন দশমিক ১৩ শতাংশ, এলাচ পাঁচ দশমিক ৪১ শতাংশ, গরু সাত দশমিক ১৪ শতাংশ, বয়লার মুরগি ছয় দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং দেশী মুরগির দাম বেড়েছে সাত দশমিক ৪১ শতাংশ। ক্রেতাদের দাবি, রমজান মাস এলেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজির মাধ্যমে এ কাজটি করেন। 

ক্যালেন্ডারের হিসেব অনুযায়ী, রমজান আসতে এখনো দেড় মাস বাকি। সেহরি ও ইফতারির জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা এ মাসে বেশ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক কারণে দামও বাড়ে। কিন্তু দেড় মাস আগেই দাম বাড়ার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে রমজানের আগে ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন, রমজানে পণ্যমূল্য বাড়বে না। সরকারও এটিকে বেশ ফলাও করে প্রচার করে। কিন্তু রমজান শুরুর আগেই এসব পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি ভোক্তাদের কোনো কাজে আসে না। এবারো তাই হয়েছে বলে জানান তারা।
গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশীও আগামী ২৭ মার্চ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন। বৈঠকে যাদের ডাকা হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই আমদানিকারক, পাইকারি বিক্রেতা কিংবা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা। অনুমান করা হচ্ছে, ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এবারো ব্যবসায়ীরা রমজারে দ্রব্যমূল্য বাড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসবেন। কিন্তু দাম যখন বাড়বে তখন তারা যথারীতি বলছেন, আমরাতো দাম বাড়াইনি, বাড়িয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। খুচরা বিক্রেতাদের কোনো সংগঠন নেই, তাদের পক্ষে প্রতিশ্রুতি দেয়ার মতো কোনো নেতাও নেই।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ জানাতে গিয়ে পুরনো ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি দোকানদার হাবিবুর রহমান গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, গত কয়েক দিনে পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। মূলত, খুচরা বিক্রেতারা রমজারের জন্য পণ্য মজুদ করতে গিয়েই এমন কেনাকাটা করছেন। তারা এখন ধারদেনা করে সাধ্যমতো পণ্য মজুদ করছেন রমজানে বাড়তি দামে বিক্রির আশায়। অনেকে আবার চড়া সুদে টাকা নিয়ে পণ্য মজুদ করছেন। রমজান উপলক্ষে কিছু মানুষের অতিরিক্ত ভোগ করার মানসিকতা তৈরি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কারণেই মদুদদাররা বাড়তি মুনাফা লোটার সুযোগ পায়।

গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য ছোলার দাম এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। এক মাস আগে মান ভেদে প্রতি কেজি ছোলা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ছোলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। যদিও কোনো কোনো বাজারে ৭৫ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, দেশে ছোলার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আরো কয়েকদিন গেলে বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে। রমজান উপলক্ষে সব ব্যবসায়ী উন্নতমানের পণ্য আমদানি করে। এ কারণে দাম একটু বেড়েছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা। বাজারে গতকাল বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয় ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। সে হিসাবে বয়লার মুরগির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। বয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে লাল লেয়ার মুরগি ও পাকিস্তানি কক মুরগির।

লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২১০ থেকে ২২০ টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে লাল লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। পাকিস্তানি কক মুরগির দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কেজি ৩০০ টাকায় পৌঁছে গেছে। এক সপ্তাহে পাকিস্তানি কক মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। এখন বাজারভেদে পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা।

দেশীনিউজ/শহিদ উল্লাহ বাবলু


অন্যান্য খবর