Floating Facebook Widget

হাওড়ের ফসল রক্ষা : নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি বাঁধ নির্মাণ - Deshi News

০৩ র্মাচ ২০১৯, রবিবারদেশীনিউজ:বৃষ্টি শুরুর আগেই হাওড়ের বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করতে হয়। সে অনুযায়ী এবারো মার্চের আগেই বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য ছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও বাঁধ নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মার্চের শুরুর দিকে আরো বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা শঙ্কা বাড়াচ্ছে হাওড়ের কৃষকদের মধ্যে। ২০১৭ সালের অকালবন্যায় হাওড়ের ফসল হারানোর আতঙ্ক দানা বাঁধছে তাদের মধ্যেসুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ৫০টি প্রকল্পের মাধ্যমে হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মিত হচ্ছে। একটি প্রকল্পের কাজও সম্পন্ন না হওয়ায় আরো ১৫ দিন সময় চেয়েছেন উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলোর (পিআইসি) সভাপতিরা। একই চিত্র পুরো হাওড়েইপানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয় হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাউবোর হিসাব বলছে, ৮১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত। যদিও জেলা প্রশাসন কৃষকদের অধিকার আদায়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, পর্যন্ত ৭০ শতাংশের বেশি কাজ এগোয়নিসবচেয়ে পিছিয়ে থাকা বাঁধগুলোর একটি সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল হাওড়ের ডুবাইল এলাকার বাঁধ। এটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও শেষ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিকে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার তাগিদ দেয়ার পরও কাজে গতি আসেনিএবার বাঁধের কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি বলে দাবি পাউবো সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়ার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, মাত্র দেড় মাসে যে পরিমাণ কাজ শেষ হয়েছে তা অবিশ্বাস্য। আশা করি অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যেই শেষ হবেপাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের হিসাবমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরো জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় নয়টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৭৬ শতাংশ জামালগঞ্জের ৫২টি প্রকল্পের ৮৩ শতাংশ। এছাড়া তাহিরপুরে ৬৬টি প্রকল্পে ৮০, ধরমপাশায় ৮৭টি প্রকল্পে ৮২, বিশ্বম্ভরপুরে ১৬টি প্রকল্পে ৮৭, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৪০টি প্রকল্পে ৭২, শাল্লায় ১১৪টি প্রকল্পে ৭৮, দিরাইয়ে ১০১টি প্রকল্পে ৮২, জগন্নাথপুরে ৫০টি প্রকল্পে ৮২, দোয়ারাবাজারে ২৩টি প্রকল্পে ৮৩ ছাতক উপজেলায় সাতটি প্রকল্পের কাজ শেষে হয়েছে ৮৪ শতাংশপাউবো ৮০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্নের দাবি করলেও ৭০ শতাংশের বেশি কাজ হয়নি বলে জানিয়েছে হাওড় নিয়ে কাজ করা সংগঠন পরিবেশ হাওড় উন্নয়ন সংস্থা। এর সভাপতি কাসমির রেজা বণিক বার্তাকে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অগ্রগতির সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কোনো মিল নেই। সুনামগঞ্জের ৩৭টি হাওড়ের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ঘাস লাগানোসহ অন্যান্য কাজ এখনো বাকি আছে। নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় ২৭টি হাওড়ের বোরো ফসল আগাম বন্যার হুমকির মুখে রয়েছেকৃষকদের অভিযোগ, গণশুনানি না করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করায় অনেক অযোগ্য লোক পিআইসির সদস্য সভাপতি হয়েছেন। তাদের কারণেই বাঁধ নির্মাণের কাজ সময়মতো শেষ হয়নি। তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর এলাকার কৃষক শাহজান মিয়া বলেন, বাঁধের কাজ সময়মতো শুরু হলে শেষও হতো। কিন্তু শুরুই করা হয়েছে দেরিতে। এখন তাড়াহুড়ো করে দায়সারা কাজ করা হবে, যা বৃষ্টি এলেই ধুয়ে যাবে। বন্যার পানিতে দুর্বল বাঁধ টিকবে না

নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় গতকাল দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরে মানববন্ধনও করেছেহাওড় বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাওনামের একটি সংগঠন। সংগঠনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতি বছর সময়মতো কাজ শুরু করতে পাউবো গাফিলতি করে, যে কারণে কাজ শেষ হতে বিলম্ব হয়। এতে হাওড়ের ফসল ঝুঁকিতে পড়েতবে দ্রুততম সময়ে বাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্নের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক হাওড়ে বাঁধ নির্মাণ তদারকিতে গঠিত জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, সার্বিকভাবে বাঁধের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আমরা দিন-রাত মাঠে আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছেবিলম্বের পাশাপাশি এবার বাঁধের কাজের শুরু থেকে বিভিন্ন পিআইসির বিরুদ্ধে কাজে গাফিলতি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এমন অভিযোগে পর্যন্ত অন্তত আটটি কমিটি বাতিল করা হয়েছে। ১১টি কমিটিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সর্বশেষ গত শুক্রবার ধরমপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল হাওড়ের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি অনিয়ম গাফিলতির অভিযোগে বাতিল করে২০১৭ সালে অকালবন্যায় হাওড়ের ফসল রক্ষাবাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ বোরো ফসল। সরকারি হিসাবে, সে বছর ফসল রক্ষাবাঁধ ভেঙে ১৫৪ হাওড়ের লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাখ ৬১ হাজার হেক্টর জমির ফসল। ওই বছর ফসলহানির পর পরই বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেউল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর ৫৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে সুনামগঞ্জে ছোট-বড় ৩৭টি হাওড়ে ৪৫০ কিলোমিটার ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে দশমিক ৬৭ কিলোমিটার, বিশ্বম্ভরপুরে ১৫ দশমিক ২৩, তাহিরপুরে ৫৫ দশমিক ৪৩, ধরমপাশায় ৫৫ দশমিক ৯৪, জামালগঞ্জে ৬১ দশমিক ৮০, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৩৬ দশমিক ২০, জগন্নাথপুরে ৩১ দশমিক ৮২, ছাতকে দশমিক ৩৬, দোয়ারাবাজারে ১০ দশমিক ২২, দিরাইয়ে ৭৪ দশমিক ২৬ শাল্লায় ৯৯ কিলোমিটারসহ বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে

দেশী নিউজ/মো:হৃদয়

অন্যান্য খবর