Floating Facebook Widget

ডিজিটাল প্রতারণার শীর্ষে মোবাইল ব্যাংকিং - Deshi News

০৩ র্মাচ ২০১৯, রবিবারদেশীনিউজ:শোভন দত্ত : দ্রুত টাকা প্রাপ্তি পাঠানোর সুযোগ করে দিচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি। তবে প্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যমটির নিরাপত্তা দিন দিন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেক গ্রাহক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্রতারণার শীর্ষে আছে মোবাইল ব্যাংকিং। প্রযুক্তিগত সুবিধার অপব্যবহার করে ১৮টি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের প্রতারিত করতে গড়ে উঠেছে বিশাল প্রতারকচক্র। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ৩৭৪ জনকে এরইমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশের ৬৩৩টি থানায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত দুটি করে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ছে। বর্তমানে ধরনের মামলার সংখ্যা রয়েছে ১৩৫টি।বাংলাট্রিবিউন গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনার পাশাপাশি অপরাধ কর্মকা অর্থ লেনদেনেও ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। এই ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত এজেন্টের বিরুদ্ধেও আছে নানা অভিযোগ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময় ২৭ জন এজেন্ট গ্রেফতারও হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেন মুদ্রা পাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছেবেশি প্রতারিত হন ঢাকা বিভাগের গ্রাহকরা : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক ঢাকা বিভাগে। দেশের মোট গ্রাহকের ২৪ শতাংশই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। ১৮ শতাংশ গ্রাহক নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। বাকি গ্রাহকরা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা সবচেয়ে বেশি হয় ঢাকা বিভাগে। আর প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বড় অংশই ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর কুমিল্লার বাসিন্দা১৫ ধরনের অপরাধ কর্মকর্তার অর্থ লেনদেনে মোবাইল ব্যাংকিং : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, অপরাধীরা অর্থ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে মোবাইল ব্যাংকি। ১৫ ধরনের অপরাধ কর্মকা অর্থ লেনদেনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার চিহ্নিত করা হয়েছে। তথ্য বলছেমাদক ব্যবসা, মানবপাচার, চোরাচালান, চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণ, হুন্ডি, জালিয়াতি, জিনের বাদশা, হ্যালো পার্টি, প্রতারণা, মুক্তিপণ আদায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রবাসীদের জিম্মি করে টাকা আদায় ধর্মভিত্তিক জঙ্গি কর্মকা মতো অপরাধের ঘটনায় টাকা লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংমোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রতারণা ধরতে কাজ করে যারা : থানা পুলিশ ছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রতারণা অবৈধ লেনদেন চিহ্নিত এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে পাঁচটি ইউনিট। এই ইউনিটগুলো হলো- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন, ্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (্যাব), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য : মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিং বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয় গত বছরের মার্চে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ছয় কোটি এক লাখ ৫২ হাজার। তবে নিবন্ধিত গ্রাহকদের মধ্যে অনেকের হিসাবই সক্রিয় নেই। সক্রিয় গ্রাহক দুই কোটি দুই লাখ ৬২ হাজার। এসব গ্রাহক প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ১১ কোটি টাকা লেনদেন করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এজেন্ট সংখ্যা আট লাখ চার হাজার ৬১০ জন। মোবাইল ব্যাংকিং প্রথম শুরু করে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। তবে কিছুটা পরে শুরু করেও সবচেয়ে এগিয়ে আছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মোট লেনদেনের ৫৫ দশমিক ১১ শতাংশ হয় বিকাশের মাধ্যমে। ডাচ-বাংলা ব্যাংক ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং অন্যান্য ব্যাংকের দশমিক ৬৩ শতাংশ মার্কেট শেয়ার আছেবিআইবিএম গবেষণা : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকিং ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণা জরিপ অনুযায়ী, নিরক্ষর মানুষরাই মোবাইল ব্যাংকিং বেশি ব্যবহার করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে কম শিক্ষিত থেকে বেশি শিক্ষিত মানুষেরা ব্যবহার করেন মোবাইল ব্যাংকিং। জরিপের তথ্য বলছে, ২১ দশমিক সাত শতাংশ নিরক্ষর মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করেন। এরপর প্রাথমিক পাস মানুষ ১৯ দশমিক শতাংশ, মাধ্যমিক পাস ১৮ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিক ১৬ দশমিক শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করেন

দেশী নিউজ/মো:হৃদয়

অর্থ ও বাণিজ্য