Floating Facebook Widget

ঝিনাইদহের ফুলনগরী থেকে ২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি - Deshi News

১৩ ফেব্রুয়ারী  ২০১৯বুধবার,দেশীনিউজ: ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম প্রতীক ফুল। এ ফুল সব বয়সী মানুষের হাতে তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ফুলনগরী হিসেবে’খ্যাত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফুল চাষিরা। আজ বসন্ত উৎসব, আগামীকাল ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস। এ দুটি দিবসকে সামনে রেখে সারাদেশে ফুলের চাহিদা বাড়ায় শুধু ঝিনাইদহ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ফুল দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি অফিস। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আরো ১ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রতিবছরই বিভিন্ন জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবসে এমন চাহিদা থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ চাহিদার সিংহভাগ জোগান দিয়ে থাকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের এলাকার ফুল চাষিরা।

বালিয়াডাঙ্গা বাজার ও কালীগঞ্জের মেইন বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, দুপুর থেকে শত শত কৃষক তাদের ক্ষেতের উৎপাদিত ফুল ভ্যান, স্কুটার ও ইঞ্জিন চালিত বিভিন্ন পরিবহনযোগে নিয়ে আসছেন। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বালিয়াডাঙ্গা বাজার ও কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড ভরে যায় লাল, সাদা আর হলুদ ফুলে ফুলে। সারাদেশের আড়তগুলোতে ফুল পাঠাতে আসা একাধিক ফুল চাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সারা বছরই তারা ফুল বিক্রি করে থাকেন। তবে প্রতিবছর বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষের দিন, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ভালবাসা দিবস প্রভৃতি দিনগুলোতে ফুলের অতিরিক্ত চাহিদা থাকে। এ সময় দামও থাকে ভালো।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জিএম আব্দুর রউফ জানান, ঝিনাইদহ মাটি ও আবহাওয়া ফুলচাষের জন্য দারুণ উপযোগী। এ বছর জেলায় প্রায় ২৪৫ হেক্টর জমিতে লিলিয়াম, গ্লাডিয়াস, রজনীগন্ধ্যা গোলাপ, গাঁদাসহ নানা জাতের ফুল। উৎপাদন ব্যয় কম, আবার লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি গাঁধা ফুল চাষ হয়। তবে, দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখলেও দ্রুত পচনশীল এ ফসল সংরক্ষণের জন্য নেই কোনো হিমাগার।

উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম জানান, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৬০শ’ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। কালীগঞ্জে গাঁদা ফুল ৪৫ হেক্টর, গোলাপ ২ হেক্টর, রজনীগন্ধা ১০ হেক্টর, গ্লাডিয়াস ১ হেক্টর, জারবেরা সাড়ে ৬ বিঘা, লিলিয়াম ৩ বিঘা জমিতে। উপজেলা কৃষি অফিসার আরো জানিয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার কৃষক সরাসরি ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। ঝিনাইদের বিভিন্ন উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ করা হয় বিভিন্ন রঙের গাঁদা ফুল। খরচ শেষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এক বিঘা জমি থেকে ৬ মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করা যায়।

কৃষি অফিস জানিয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলার লাউতলা, বালিয়াডাঙ্গা, কোলাবাজার, তিল্লা, সিমলা, রোকনপুর, গোবরডাঙ্গা, পাতবিলা, পাইকপাড়া, তেলকুপ, গুটিয়ানী, কামালহাট, বিনোদপুর, দৌলতপুর, বারবাজার, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার, মধুহাটি, গান্না বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন মাঠের পর মাঠে চাষ করা হয়েছে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ ও গ্লাডিয়াসসহ নানা জাতের ফুল। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গাঁধা ফুল, জারবেরা, গ্লাডিয়াস ও রজনীগন্ধার চাষ হয় কালীগঞ্জে ত্রিলোচানপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা ও কোলাবাজার এলাকায়। এ কারণে সবাই এখন এই এলাকাকে ফুলনগরী হিসেবে পরিচিত।

বসন্ত উত্সব ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এক ঝুপি গাঁদা ফুল ৫০-৮০ টাকা দরে, রজনীগন্ধা বিক্রি হয়েছে ১ কেজি ১০০ টাকা ও পিস ৩/৪ টাকা আর গ্লাডিয়াস ১ পিস ৮-১০ টাকা দরে, জারবেরা বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করেছে কৃষকরা। সোমবার বিকেলে এলাকার উৎপাদিত ফুল দূরপাল্লার পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবারও কিছু ফুল ঢাকায় পাঠানো হবে।

জেলার কালীগঞ্জের লাউতলা, বালিয়াডাঙ্গা বাজার, কোলাবাজার ও মেইন বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, ফুল চাষিরা তাদের ক্ষেতের উৎপাদিত ফুল ভ্যান, স্কুটার ও ইঞ্জিনচালিত বিভিন্ন পরিবহনযোগে নিয়ে আসে। এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ফুল চাষিরা জানান, সারা বছরই তারা ফুল বিক্রি করে থাকেন। তবে প্রতিবছর বিভিন্ন দিবস ও ভালোবাসা দিবসে ফুলের অতিরিক্ত চাহিদা থাকে। এ সময় দাম ও থাকে ভালো।

কালীগঞ্জের জারবেরা ফুল চাষি টিপু জানান, তিনি এবার ভালোবাসা ও বসন্ত দিবস উপলক্ষে প্রায় ২০ লাখ টাকার জারবেরা ফুল বিক্রি করেছেন। বালিয়াডাঙ্গার ফুল চাষি জয়নাল হোসেন জানান, তিনি এবার ৩ লাখ টাকার গাঁদা ফুল বিক্রি করেছেন।

ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুল চাষি জিল্লুর রহমান জানান, আমি প্রতিবছরই ফুল চাষ করি। এ বছর আমি ১৬ কাঠা জমিতে ফুল চাষ করেছি। যা খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা ফুল বিক্রি করেছি। আসছে বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবসে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা ফুল বিক্রি করব বলে আশা করছি। মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত এই ফুল বিক্রি করতে পারব বলেও যোগ করেন এই ফুল চাষি।

একই গ্রামের বড় ফুল চাষি টিপু সুলতান জানান, ২০১৭ সালে ৫৫ লাখ টাকা খরচ করে ৫ বিঘা জমিতে জারবেরা ফুলের চাষ করেছিলাম। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছি। এ বছর প্রায় দুই বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ করেছি। এলাকার পুরনো এই ফুল চাষির আশা আসছে বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবসে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারব। এ ছাড়া ২০১৭ সালের নভেম্বরে ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৪ বিঘা এবং গাজিপুরে ২ বিঘা জমিতে লিলিয়াম ফুলের চাষ করি। নতুন এই ফুলের আদি নিবাশ ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় খুব একটা লাভ হয়নি এই নতুন জাতের ফুলে।

ঢাকার ফুল ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান ও জয়নাল হোসেন জানান, প্রতিদিনই উপজেলার ফুল চাষিরা ফুল নিয়ে কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ডে আসে। তাদের কাছ থেকে ফুল কিনে দূরপাল্লার বাসে-ট্রাকে ফুল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। প্রতিদিন এখান থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার ফুল পাঠানো হলেও বসন্ত উৎসব ও ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে প্রায় ২ কোটি টাকার ফুল পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আরো প্রায় ১ কোটি টাকার গাদা, রজনী গন্ধা ও গোলাপ ফুল পাঠানো হবে। যা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঠানো শুরু হবে।

দেশীনিউজ/শফিকুল ইসলাম


জেলা সংবাদ