Floating Facebook Widget

ধীরে ধীরে মামলার জট নিরসন হচ্ছে - Deshi News

১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, রবিবারদেশীনিউজ: আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দীর্ঘ দিন ধরে দেশের আদালতগুলোতে মামলার জট বেঁধে আছে। এই মামলার জট নিরসনে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রেভুলেশনারি না হলেও ইভুলেশনারি (ধীরে ধীরে) এই জট নিরসন হচ্ছে।

আজ রবিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে এসংক্রান্ত সম্পুক প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারী দলের সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। তিনি জানতে চান, বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আদালতের মামলার জট নিরসনে বিচার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে কিনা?

জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, মানুষের হয়রানি এড়াতে ও মামলার জট কমানো ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে সুনির্দ্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন মামলার পাশাপাশি পুরানো মামলা দ্রুত নিস্পত্তির কাজ শুরু হয়েছে। এমনকি দেওয়ানী মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরানো মামলাগুলো আগে নিস্পত্তির জন্য বলা হয়েছে। এজন্য আদালতের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।  

সরকারী দলের সদস্য মোরশেদ আলমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মামলা জটের কারণ তুলে ধরে জানান, মামলা দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অন্যতম একটি প্রতিবন্ধকতা হলো এজলাস সংকট। এজলাস স্বল্পতা দুর  রে সর্বোচ্চ কর্মঘন্টা ব্যবহার করে বিচারকাজে গতিশীলতা আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৮টি জেলায় নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে ২৪টি জেলায় নির্মাণ কাজ শেষে নতুন ভবনে বিচারকাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে জেলা জজ আদালতের এজলাস সংকট নিরসনের জন্য ‘২৮টি জেলায় আনুসাঙ্গিক সুবিধাদিসহ জেলা জজ আদালত ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে মামলা ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। পুরাতন মামলাগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রত্যেক আদালতে সাক্ষীর সমন জারি নিশ্চিত করে সাক্ষীগণকে হাজির করে দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে ডাক্তার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সহজতর হয়। পুরাতন মামলাগুলি অগ্রাধিকার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সলিসিটরের নেতৃত্বে মনিটারিং সেল কাজ করছে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় কেস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

আওয়ামী লীগের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী জানান, সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সারাদেশে আরো ৪১টি ট্রাইব্যুনাল ও ৭টি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সৃজন করেছে। উক্ত টাইব্যুনাল সমূহের জন্য ২০৫টি সহায়ক পদও সৃজন ও পদগুলোতে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালত সমূহে সহায়ক কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সরকারী দলের সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক জানান, আদালতগুলোতে মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য আদালত ভবন নির্মাণ পরিকল্পনায় আইনজীবী, স্বাক্ষী ও অন্যান্যদের বসার ও কিছু সময় অপেক্ষার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দেশীনিউজ/আবু ইউসুফ


অফিস আদালত