Floating Facebook Widget

নিজের জেলার নামটাও শুদ্ধ করে লিখতে পারল না তারা - Deshi News

১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, রবিবারদেশীনিউজ: পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্রের কাছে তাদের নিজ জেলা ‘ময়মনসিংহ’ ও ‘নরসিংদী’ বানান জানতে চেয়ে হোঁচট খেয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। শ্রেণি শিক্ষককে ভর্ৎসনা করে তিনি বলেন, ‘ভাষার মাসে বাংলা বানান শুদ্ধভাবে লিখতে না জানা খুব দুঃখজনক’। মোহাম্মদপুর সরকারি আইডিয়াল প্রাইমারি স্কুলে গতকাল শনিবার এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গতকাল রাজধানীর কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আচমকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। প্রথমেই তিনি ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণির এই দু’জন শিক্ষার্থীর কাছে তাদের গ্রামের বাড়ি কোথায়, তা জানতে চান। তাদের একজন উত্তর দেয়- ময়মনসিংহ। আরেকজন বলে নরসিংদী। পরে তিনি তাদের নিজ জেলার নাম লিখতে বলেন। ওই দুই শিক্ষার্থী জেলার নাম ভুল লেখে।
এতে তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘শিক্ষকদের পাঠদান অসন্তোষজনক। ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বাংলা বানান লিখতে না পারার দায়ভার শিক্ষকদেরকেই নিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার পদক্ষেপ নিবে। ভবিষ্যতেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন নিজ বাসভবন রাজধানীর সিদ্ধেশরী থেকে সরকারি গাড়ি নিয়ে বের হয়ে ন্যামভবনে যান। সেখানে গাড়িটি রেখে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর এলাকার ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রীর হঠাৎ উপস্থিতিতে এ সময় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী সমস্যাগুলো নোট করে নেন এবং তা সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি এসব বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণি কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে উত্তর জানতে চান। তবে দু’-একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়া আর প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি।
শাহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শ্রেণি শিক্ষকের অনুপস্থিতি দেখতে পান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ওই শিক্ষক বিনা ছুটিতে অনুস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় লাল দাগ নেই কেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সদুত্তর দিতে পারেননি। শিক্ষক পিংকী দেবী অনুপস্থিতির কারণ ফোনে প্রতিমন্ত্রীকে বলতে পারেননি।
একই স্কুলের শিক্ষক-অভিভাবক প্রতিমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, তাদের স্কুল শাহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৬ শতাংশ জায়গার মধ্যে ২৩ শতাংশ জায়গাই বেদখল হয়ে আছে। স্কুলের বাইরে গিয়ে অভিভাভকদের বিভিন্ন অভিযোগও মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সন্তানদের সুশিক্ষিতভাবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও ভূমিকা অনেক। আপনারা মনোযোগ দিয়ে নিজের সন্তানের মতো করে তাদেরকে পড়াবেন। আর আমি সাধ্যমত চেষ্টা করব আপনাদের সব অভাব অভিযোগ পূরণ করতে।
প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন রাজধানীর নবযুগ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরাবো প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন। বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সৎ নজর আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি। প্রতিবছর সরকার বিনামূল্যে বই দিচ্ছে। আপনারা একটু মনোযোগ দিয়ে নিজের ছেলেমেয়ে মনে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াবেন। এখন থেকে মাঝে মাঝে আপনাদের সঙ্গে আমার দেখা হবে।

দেশীনিউজ/আবদুল মোতালেব মজুমদার/করসপনডেন্ট


শিক্ষাঙ্গন