Floating Facebook Widget

ঝিনাইদহে ৬৩ হতদরিদ্র পরিবার পাকা ঘর পেলো - Deshi News

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯,শনিবারদেশীনিউজ: ঝিনাইদহে চলছে নির্বাহী কর্মকর্তাদের সততা লড়ায়ের প্রতিযোগিতা। আশ্রয়ণ প্রকল্পের টিনের পরিবর্তে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে করে দেওয়া হচ্ছে পাকা ঘর। হরিণাকুন্ডু উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের হাত দিয়ে শুরু টিনের পরিবর্তে পাকা ঘর নির্মাণ। তার দেখাদেখি জেলার ৫ উপজেলায়ও শুরু হয় টিনের পরিবর্তে পাকা ঘর নির্মাণ। প্রত্যেকে সততার সাথে প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ দিয়ে পাকা ঘর করে দিচ্ছেন হতদরিদ্রদের। ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে হরিণাকুন্ডু উপজেলার বরাদ্দকৃত ৬৩টি পাকা ঘর।


হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে প্রতিটি ঘরের মাপ দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১৬ ফুট লম্বা আর সাড়ে ১০ ফুট আড়। এছাড়া বারান্দা রয়েছে ৫ ফুট। সঙ্গে আছে একটি বাথরুম। ইট দিয়ে পোতা পর্যন্ত করে তার উপর টিনের বেড়া দেওয়ার কথা ছিল। উপরের চালও হবে টিনের। এভাবে ঘরগুলো ওই এক লাখ টাকা ব্যয় করেই নির্মাণ শেষ করতে হবে।জানা যায়, ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে হতদরিদ্রদের টিন সেডের ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। এই প্রকল্পে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় বরাদ্দ আসে ৬৩টি ঘরের জন্য ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি ঘরের জন্য আসে এক লাখ টাকা।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৬৩টি ঘর করার জন্য সরকারিভাবে নির্দেশ দেয় এবং বাজেট আসে ৬৩ লাখ টাকা। এই নির্দেশ পেয়ে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্বিধায় পড়েন নির্বাহী কর্মকর্তা। কিভাবে ঘরগুলো বাস্তবায়ন করা যায়। তারা ভাবতে থাকে ঠিকাদার বা অন্য কারো মাধ্যমে ঘরগুলো তৈরি করলে সব অর্থ ব্যয় করেও ভালো ঘর করা যাবে না। আবার এই নিম্নমানের ঘর নিয়ে জনসাধারণের মনে নানা প্রশ্ন উঠে আসবে।

এ সময় নকশা অনুযায়ী টিনের ঘর তৈরি করতে তারা স্থানীয় একটি বাজেট করেন। সেখানে দেখতে পাই স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার পরও টিনের ঘর তৈরিতে তাদের ব্যয় হবে ৭৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকা। বরাদ্দ এক লাখ টাকার মধ্যে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। তখন তারা ইটের পাকা ঘর তৈরি করতে কত খরচ হবে তার একটা পৃথক বাজেট করেন।

সেখানে দেখা যায়, স্থান ভেদে এক লাখের দুই তিন হাজার টাকা বেশী খরচ হবে। শহর থেকে গ্রামের দূরত্বের কারণে খরচ কম বেশী হবে। এই বাজেট করার পর তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তারা ঘরগুলো পাকা করবে। হতদরিদ্ররা টিনের পরিবর্তে পাবে পাকা ঘর। যা তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। কিন্তু মূল নকশার বাহিরে এই কাজ। তারপরও পাকা ঘর নির্মাণে জোর দেয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেন। তারপর শুরু হয়ে যায় তাদের কর্মযজ্ঞ।

কাপাশাহাটিয়া ইউনিয়নের আক্কাস মণ্ডলের ছেলে আলম মণ্ডল বলেন, আমি দিনমজুর। হাজার চেষ্টা করেও পাকা ঘরে ঘুমানোর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না। মাত্র ২ শতক জমির উপর বেড়ার ঘরে ছেলে মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতাম। এই শীতে বেড়ার ভিতর বাতাস প্রবেশ করায় ঠিকমতো ঘুমানো যেত ন। আমরা এখন পাকা ঘরে ঘুমানোর স্বপ্ন দেখি।

মান্দারতলা গ্রামের মৃত আনছার শেখের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, মাত্র ৩ শতক জমির উপর মাটির ঘর ছিল। অটো ব্রিকস্ এর ইট দিয়ে পাকা ঘর করে দিচ্ছে সরকার। সেই ঘরে তারা ঘুমাচ্ছেন। যা তাদের কাছে ছিল শুধুই কল্পনা।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, টিন দিয়ে তৈরি ঘরের জন্য যে বাজেট তারা পেয়েছিলেন সেই বাজেটেই সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ সারের পরামর্শে ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাসের সহযোগিতায় এবং বরাদ্দ পাওয়া টাকার সঠিক ব্যবহারের কারণে।

বাড়তি কোনো বরাদ্দ ছাড়াই অটোব্রিকস্ এর ইট দিয়ে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে এই কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে উপকারভোগীদের ঘর বুঝে দেওয়া হয়েছে। যা পেয়ে খুশি হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

দেশীনিউজ/নাজিমুল গনি মামুন


জেলা সংবাদ