Floating Facebook Widget

শাওমি বাজারে আনছে ভাঁজ করা স্মার্টফোন - Deshi News

২৪ জানুয়ারি ২০১৯,বৃহস্পতিবার,দেশীনিউজ: প্রয়োজন হলে হাতের স্মার্টফোনটির ভাঁজ খুলে ট্যাবলেটে রূপান্তরিত করা যায়, আবার ডিসপ্লের দুইপাশের অংশ পেছনে ফোল্ড করে পুনরায় ফোন হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

চীনা প্রযুক্তি সংস্থা সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ওয়েইবোতে দেয়া একটি পোস্টে কোম্পানিটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ডবল ভাঁজ করা ডিভাইসটি শিগগিরই বাজারে আসছে এবং সাধারণ মানুষকে এর নাম ঠিক করার ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য আহ্বানও করা হয়েছে।এমনই একটি আশ্চর্য ফোন উন্মোচন করার কথা জানিয়েছে চীনের স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শাওমি।

যদিও স্যামসাং এবং স্টার্ট-আপ রয়্যাল আগেই তাদের নিজস্ব নমনীয়-স্ক্রীনযুক্ত ফোন উন্মোচন করেছিল। কিন্তু তাদের ফোনগুলো শুধু একবার ফোল্ড করা যায়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিসিএস ইনসাইটের বেন উড বলেছেন, ‘এটি খুবই মজার যে শাওমি তাদের ফোনের প্রোটোটাইপে তিনটি উপায়ের ভাঁজ করার পদ্ধতি বের করতে পেরেছে।’

বেন উড বলেন, ‘সাধারণত ফোনের যে অংশে ভাজটা পড়ে যেখানে সমস্যার আশঙ্কা বেশি থাকে।’

তারপরও ফোল্ডেবল স্ক্রিনের এই ধারণা স্মার্টফোন প্রস্ততকারকরা তাদের ফোনগুলোকে অন্য ফোনগুলোর চাইতে আলাদা করবে।

এ কারণে নতুন প্রযুক্তি সম্বলিত এই স্মার্টফোনটি যথেষ্ট ব্যয়বহুল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘ফোল্ডিং ডিসপ্লেগুলি পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্ট ডিভাইসের নতুন সূচনা করবে বলে মনে করেন উড। তিনি বলেন, ‘এই ভাজ করা ট্যাবলেটসহ একটি স্মার্টফোন যে গ্যাজেট প্রেমীদের চুম্বকের মতো টানবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।’

এছাড়া এই ফোনটিকে রক্ষায় এর কেসের ডিজাইনটি কেমন হতে পারে সেটা নিয়েও চিন্তায় পড়েছেন কেস উৎপাদকরা।

হুয়াওয়ে জানিয়েছে, চলতি বছরেই তারা একটি ফোল্ড-আউট স্ক্রিনের ফোন বের করতে যাচ্ছে।

এ ধরনের ঘোষণা আরও আগে দিয়েছে স্যামসাং। তাদের গ্যালাক্সি এক্স ফোনে এই প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্যামসাং এই ফোন সেটের ব্যাপারে জানালেও সামনে এ নিয়ে আরও বিস্তারিত খোলাসা করার কথা বলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মোবাইল স্ক্রিনের বিবর্তন হলো যেভাবে

আইবিএম সায়মন: প্রথম মোবাইল ফোন যারা টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি এনেছিল। তবে ফোনটির ব্যাটারি মাত্র এক ঘণ্টা স্থায়ী হতো।

সিমেন্স এস-টেন: রঙিন ডিসপ্লে সম্পন্ন প্রথম হ্যান্ডসেট - যদিও সেখানে শুধুমাত্র লাল, সবুজ, নীল এবং সাদা রং প্রদর্শিত হতো।

এলজি প্রাডা: হ্যান্ডসেটটি ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রীন প্রবর্তন করেছিল - সেখানে পর্দার ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রের পরিবর্তনের দ্বারা আঙুলের চাপ সনাক্ত করা হতো।

আইফোন: অ্যাপল "মাল্টি টাচ" প্রযুক্তি সামনে আনে। যোগাযোগের বিভিন্ন দিক সনাক্ত করে - পিন-টু-জুম এবং অন্যান্য ইন্টারেকশনকে তারা সামনে আনে।

নোকিয়া এন এইটি ফাইভ: ওএলইডি (অর্গানিক লাইট এমিটিং ডায়োড) স্ক্রিন-যুক্ত প্রথম ফোন। এটি গভীর কালো এবং আরও ভাল কনট্রাস্ট রং প্রদর্শন করতো।

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট: স্মার্টফোনে বড় স্ক্রিন অর্থাৎ ৫ ইঞ্চির ওপরে টাচ-স্ক্রিনের চল শুরু করেছে স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট। এ সময় ফ্যাবলেট ইতোমধ্যে বাজারে চলে এলেও এতো বড় হ্যান্ডসেট সেটাই।

এলজি জি ফ্লেক্স: প্রথম বেন্ডিং স্ক্রিন আসে এই হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে। অথচ একসময় টাচ-স্ক্রিন বেঁকে যাবে সেটাই কেউ বিশ্বাস করতে চাইতো না। এলজির এই প্রযুক্ত পরে অন্য স্মার্টফোনের পথপ্রদর্শক হয়।

শার্প অ্যাকোস ক্রিস্টাল: ফোনের সাইডের বেজেল পাতলা করে একটি এজলেস লুক দিয়েছিল এই হ্যান্ডসেটটি। যা পরবর্তীতে সবাই অনুসরণ করে।

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট এজ: স্যামসাংয়ের এই হ্যান্ডসেটটির পর্দা দুদিকে মোড়ানো থাকে। এতে নোটিফিকেশন এবং অ্যাপ্লিকেশন শর্টকাটগুলোর জন্য অতিরিক্ত স্থান পাওয়া যায়।

সোনি এক্সপেরিয়া জেড ফাইভ প্রিমিয়াম: স্মার্টফোনটি ফোর ডি ডিসপ্লে সবার আগে সামনে আনে। সে সময় এ ধরণের অতিমাত্রায় হাই-ডেফিনিশন মোবাইল স্ক্রিন পাওয়া এতোটাও সহজ ছিল না।

এসেনশিয়াল ফোন: আপেলকে টেক্কা দিয়ে ক্যামেরা নচের প্রবর্তন করেছিল এসেনশিয়াল ফোন। যেখানে পর্দার উপরের অংশটি প্রসারিত হয়। যাকে এখন অনেকেই ইনফিনিটি ডিসপ্লে বলে থাকে।

রয়েল ফ্লেক্সপাই: ক্যালিফোর্নিয়ার ভিত্তিক এই ফোনটি গত বছর ‘বিশ্বের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন’প্রকাশ করার মাধ্যমে পুরো স্মার্টফোন শিল্পকে চমকে দেয়।

দেশীনিউজ/এমআই


বিজ্ঞান