Floating Facebook Widget

বিক্ষোভে বন্ধ শতাধিক কারখানা - Deshi News

১০ জানুয়ারি ২০১৯,বৃহস্পতিবার,দেশীনিউজ:  সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি, বাস্তবায়নের দাবি ও সাভারে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল চতুর্থদিনের মতো আন্দোলনে তারা। রাজধানী ও এর পাশর্^বর্তী বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ১০টি কারখানায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে। উপায় না পেয়ে ইতিমধ্যে শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনে টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভার ও আশুলিয়ায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানাগুলোর সামনে পুলিশের জলকামানসহ সাঁজোয়া যান রয়েছে।


 গতকাল বুধবার সকাল ৭টায় আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের পার্শ্ববর্তী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করেই তাদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, নতুন মজুরি কাঠামো পূর্ণ বাস্তবায়ন, বেসিক বৃদ্ধির সাথে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সে হারে বৃদ্ধি ও কারখানায় নিরাপত্তা পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে এ আন্দোলনে নেমে পড়ে শ্রমিকরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওই সড়কে রিকশা থেকে শুরু করে কোনো পরিবহন চলতে দেয়নি শ্রমিকরা। 

 শ্রমিকরা নতুন মজুরি কাঠামোকে তাদের সাথে প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মিরপুরের কালশীর ২২তলা ভবনের সামনে ও সাড়ে ৯টা থেকে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন  গার্মেন্ট শ্রমিকরা। এতে করে ওই এলাকার সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসব এলাকায় পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।   

সকাল ৯টায় নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, অনন্ত গ্রুপ, সোনিয়া গার্মেন্টস, নিট এশিয়া, ট্রাউজার লাইনস, জনরণ লিঃ, ম্যাগপাইসহ প্রায় ২০টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে পড়ে। এ সময় ওই সড়কের পরিবহন চলাচলে তারা বাধা দেয়। ঘটনায় ৮/১০টি পরিবহন ভাঙচুর করে। তাদেরকে ঠেকাতে পুলিশ মারমুখী হলে শ্রমিকদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ টিয়ারসেল ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী ওই এলাকায় এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলে। 

সকাল সাড়ে ১০টায় বেরন সরকার মার্কেট, ছয়তলা, জামগড়া, শিমুলতলা ও ইউনিক এলাকার প্রায় ৩০টিরও অধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থলের উৎপাদন বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে পড়ে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এক পর্যায়ে ইউনিক ও শিমুলতলা পলমল গ্রুপ এলাকা থেকে বিক্ষোভ নিয়ে জামগড়া চৌরাস্তায় এলে পুলিশের একটি দল তাদেরকে বাধা দেয়। বাধা পেয়ে নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এ সময় জলকামান গাড়ি ও পুলিশের গাড়ি এসে তাদেরকে সড়ে যেতে বললে তারা তাদের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে বলেন। কারণ তারা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মস্থল থেকে রাস্তায় নেমেছেন। দাবি আদায় করেই তারা কর্মস্থলে ফিরে যাবেন বলে পুলিশকে সাফ জানিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। 

শিমুলতলা এলাকায় শ্রমিকরা রাস্তায় বড় বড় পাথর ও ময়লা স্তূপের বস্তা ফেলে গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সকাল থেকে ওই এলাকার সেড ফ্যাশন, উইন্ডি গ্রুপ, স্টালির্ং অ্যাপারেলস, স্টার্লিং স্টাইল, স্টালির্ং ক্রিয়েশন, সেতারা গ্রুপ, মেডলার অ্যাপারেলস, বান্দো ডিজাইন, এএম ডিজাইন, এনভয় গ্রুপ, ডিজাইনার জিন্স, দি রোজ ড্রেসেস, ডেকো গ্রুপ, হিয়ন অ্যাপারেলস, দি ড্রেস আইডিয়াস, পলমল গ্রুপসহ প্রায় ৩০টি কারখানার প্রায় ২০ সহস্রাধিক শ্রমিক তাদের দাবিতে অটল থেকে বিক্ষোভ ও পুলিশের সাথে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিনুল হক আমিন বলেন, মজুরির অসঙ্গতিগুলো দূর করতে এক মাস সময় না নিয়ে যদি তিন দিন বা এক সপ্তাহ সময় নেয়া হতো, তাহলে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হতো। তবে মঙ্গলবারের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটিও মন্দ হয়নি। তিনি মনে করেন, ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে আসবে। : নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১৫ শ্রমিক আহতাবস্থায় এসেছে। এদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের ভর্তি করা হয়েছে। 

জানতে চাইলে আশুলিয়া থানা ইন্সপেক্টর জাভেদ মাসুদ বলেন, শ্রমিকরা তাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় পরিবহন চলাচলে বাধা, ভাঙচুর ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। গতকালের শ্রমিকদের এ আন্দোলন দমাতে বেলা সাড়ে ১০টায় পুলিশের সাথে বিজিবিকে পুলিশের পাশাপাশি কাজ করতে দেখা গেছে। 

শিল্প পুলিশ-১ এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজ (গতকাল) ৭০টির মতো কারখানার শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসে। এসব কারখানায় গতকাল কোনো কাজ হয়নি। শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে নয়জন পুলিশ আহত হয়েছেন। আশুলিয়ার বাইপাইল, কাঠগড়া, পুকুরপাড়েও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে তিনটায় এ বিক্ষোভ চলছিল। এখন সাভারে অবশ্য শ্রমিকেরা রাস্তা ছেড়ে দিয়েছে। শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে ডার্ড গ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। 

বিভিন্ন সূত্র বলছে, বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে ৫০-এর বেশি শ্রমিক আহত হয়েছে। এ সময় নয়জন পুলিশও আহত হয়েছে। পরে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বেলা পৌনে চারটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাভারের পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও আশুলিয়ার কয়েকটি জায়গায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছিল। এদিকে ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিতকরণ, অপারেটর ও হেলপারের মধ্যে বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা টানা চারদিন ধরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুরে আন্দোলন করছেন। উল্লেখ্য, বেতন কাঠামোতে বৈষম্য দূর করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। 

দেশীনিউজ/আবদুল মোতালেব মজুমদার/করসপনডেন্ট

অর্থ ও বাণিজ্য