Floating Facebook Widget

মাওয়ার ইলিশ মাটিতে নেই - Deshi News

১২ এপ্রিল ২০১৮,বৃহস্পতিবার,দেশীনিউজবাঙালির বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশ যেন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে। পান্তা-ইলিশ ছাড়া যেন নববর্ষের প্রথম সকালটি শহুরে মানুষ কল্পনাই করতে পারে না। যদিও এ সময়টা ঠিক ইলিশের উপযুক্ত নয়। সরকারের পক্ষ থেকেই জাটকা না ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবু বাজারে উঠেছে ইলিশ। যদিও দাম সাধারণের হাতের নাগালের বাইরে, একেবারে আকাশচুম্বী। বর্ষবরণের দুদিন আগে মুন্সীগঞ্জের হাটবাজার ঘুরে ইলিশের এই চিত্রই দেখা গেছে। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে বটে, তারপরও চেষ্টা করছেন, নিজের জন্য যেমনই হোক, একটা ইলিশ সংগ্রহ করতে। 

মুন্সীগঞ্জের পদ্মার ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সারা দেশে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, মাছের অন্যতম আড়ত লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় পদ্মার ইলিশ কেনার জন্য ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। রাজধানী থেকেও অনেকে পদ্মার ইলিশ কেনার জন্য মাওয়ায় মাছের আড়তে ছুটে আসছেন।

লৌহজং উপজেলার মাওয়া মাছের আড়তে সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার জন্য পাইকারি মাছ বিক্রির পসরা বসে থাকে। প্রতিদিনের পাইকার ছাড়াও সাধারণ ক্রেতার সমাগম ঘটেছে সেখানে।

পদ্মার সুস্বাদু রুপালি ইলিশ ছাড়াও মাওয়া মাছের আড়তে রুই, কাতল, পাঙ্গাশ, চিতল, আইড়, চিংড়ি, পাপদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শৌখিন ক্রেতারা আসছেন এখানে। কেউ কেউ দ্বিগুণ দামেও ইলিশ কিনতে পেরে বেশ খুশি।

আড়তে এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। ওই দামে বিক্রি করা একেকটি ইলিশের ওজন মাত্র দেড় কেজি। আবার দুই কেজি ওজনের একেকটি ইলিশের হালিতে বিক্রি হচ্ছে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।

মাওয়া আড়ত সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হামিদুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবার ব্যবসা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এবার পদ্মা নদীতে ইলিশ মিলছে না খুব একটা। আবার পদ্মা সেতুর কাজের জন্য নানা সমস্যায় মাছ নিয়ে ঘাটে বা আড়তে আসতে পারছেন না অনেক জেলে।

মাওয়া আড়ত সমবায় সমিতির সভাপতি ছানা রঞ্জন দাস জানান, দেশের বড় মৎস্য আড়ত এই মাওয়া ঘাট। পদ্মার ইলিশসহ নদীর সুস্বাদু বিভিন্ন প্রকার মাছ পাওয়া যায়। এই বৈশাখে পাইকারি ও সাধারণ ক্রেতাদের ইলিশের চাহিদা পূরণ হবে না। ঘাটে ঠিকমতো মাছ আসতে পারছে না। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মিয়ানমারের ইলিশ আসছে ঠিকই। কিন্তু মাওয়ায় পদ্মার ইলিশ চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

লৌহজং উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস তালুকদার জানান, ছোট ইলিশ বা জাটকা ধরা নিষেধ। নদীতে এখনো ঘোলা পানি আসেনি। এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

দেশীনিউজ/কামাল হুসাইন

জেলা সংবাদ