Floating Facebook Widget

কালীগঞ্জে সৎ ছেলেদের অত্যাচারে ভিটে বাড়ি ছাড়া বিধবা মায়ের সংবাদিক সম্মেলনে যা বললেন - Deshi News

১৯ মার্চ ২০১৮,সোমবার,দেশীনিউজঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নুরজাহান বেগম নামের এক বিধবা মা তার সৎ ছেলেদের অত্যাচার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সংবাদিক সম্মেলন করেছেন। তার ছেলেকে হত্যার হুমকি, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া, ধরন্ত শিমগাছ কেটে ফেলা, মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সোমবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

সাংবাদিক সম্মেলনে নুরজাহান বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে মাহফুজ হোসেন। সাংবাদিক সম্মেলনে নুরজাহান বেগম অভিযোগ করে বলেন, ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত নুরুল হক ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল মান্নানের সাথে তার বিয়ে হয়। ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর স্বামী আব্দুল মান্নান মারা যান। নুরজাহান বেগমের সাথে বিয়ের আগে আব্দুল মান্নানের আরো একটি বিয়ে ছিল। সেই ঘরে কামাল, জসীম, ইসরাফিল, সুফিয়া ও মনোয়ারা নামের ৫ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থায় বড় ছেলে কামালকে ১ বিঘা, মেঝ ছেলে জসীমকে ১ বিঘা জমি, ছোট ছেলে ইসরাফিলকে নগদ ৮০ হাজার টাকা ও ১০ কাঠা জমি এবং তার ছেলে মাহফুজ নাবালক থাকায় তাকে দেড় বিঘা জমি লিখে দিয়ে যান। 

এছাড়া আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রী কে ২ বিঘা ও আমাকে ২৭ শতক জমি লিখে দেন। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময়ে সৎ ছেলেরা আমার জায়গা জমি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য আমার উপর নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। স্বামীর মৃত্যুর ১৪ দিন পর সৎ ছেলে জসিম কৌশলে তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে বেদম মারপিট করে এবং আমার ওষুধ পা দিয়ে পাড়িয়ে নষ্ট করে দেয়। স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থায় অনেকবার তারা আমাকে ও স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে রক্তাক্ত জখম করে। সে সময় আমার মাথায় ৮ টি সেলাই দেয়া হয়। এছাড়া ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া, ধরন্ত শিম গাছ কেটে ফেলে দেওয়াসহ নানান ভাবে অত্যাচারসছে। 

এমনকি আমার একমাত্র ছেলে মাহফুজ কে তারা হত্যা করবে বলে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। নুরজাহান বেগম আরো অভিযোগ করে বলেন, এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে জামিলের কাছে সৎ ছেলে কামাল বলেছে আমার নিজ ছেলে মাহফুজকে যেকোন মূল্যে হত্যা করবে। তাদের তিন ভাইয়ের মধ্যে একজন জেল খাটলে কোন অসুবিধা হবে না বলেও সে হুমকি দেয়। সৎ ছেলেদের ভয়ে তারা এখন বাড়ি ছাড়া। সৎ ছেলেদের এসব কাজে সহযোগিতা করছে প্রতিবেশি নোনা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী এবং তার দু’ছেলে আনোয়ার ও সরোয়ার। লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, বেশ কিছু দিন আগে মোহাম্মদ আলীর দু’ছেলে আনোয়ার ও সরোয়ার হুমকি দেয় বাড়িতে আগুন ধরিয়ে ও বোমা মেরে উড়িয়ে দিবে। হুমকি দেওয়ার কয়েকদিন পর তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি আমার ধরন্ত শিম গাছ কেটে দেয়, ১১ মার্চ গভীর রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে নলকুপ স্থাপনের জন্য রক্ষিত ১০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। 

সে সময় তারা টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি ও বিষয়টি কাউকে জানালে ফলাফল খারাপ হবে বলে শাসিয়ে যায়। বর্তমানে আমি সৎ ছেলেদের অত্যাচার নির্যাতনে ও নিজ ছেলে মাহফুজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে যেতে পারছি না। পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এসব ঘটনায় আপনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নুরজাহান বেগম জানান, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ মোহাম্মদ আলীকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ছেড়ে দিলে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং বলে সাংবাদিক, থানা পুলিশ, চেয়ারম্যান, মেম্বর সব আমার পকেটে। আমার বিচার করবে কে? বিষয়টি নিয়ে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। গরীব মানুষ হওয়ায় মামলা মোকদ্দমাও করতে পারছি না। সাংবাদিক সম্মেলনের সময় উপস্থিত ছিলেন, নুরজাহান বেগমের চাচাতো ভাই আব্দুল কুদ্দুস, ভাইপো মিল্টন, নিজ ছেলে মাহফুজ হোসেন প্রমুখ। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার কাছে অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।

দেশীনিউজ/ঝিনাইদহ প্রতিনিধি/জাহিদুর রহমান তারিক


জেলা সংবাদ