Floating Facebook Widget

খালেদাকে চ্যালেঞ্জ ভেবে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা:মির্জা ফখরুল - Deshi News

১১ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার,দেশীনিউজখালেদা জিয়াকে ‘বিরাট চ্যালেঞ্জ’ মনে করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিষয়টিকে শাসকদলের নেতাদের ‘মস্তিস্কে গোলযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির এই শীর্ষ নেতা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যেন গণতন্ত্রের ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে তীর্যক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন তা শুধু অনভিপ্রেত বা দুঃখজনক।’

ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় দানা বাঁধবে। প্রধানমন্ত্রীর কুৎসামূলক অপপ্রচারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিভেদ-বিভাজনকে আরো প্রসারিত করবে ও গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাকে বাধা দেওয়ার সামিল বলে গণ্য হবে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদলের নেতারা কেন এখন বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এতো তীব্র মিথ্যাচারে লিপ্ত হলেন? তার প্রধান কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের অনাচার-অপকর্মের বিরুদ্ধে বেগম জিয়া এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। খালেদা-ভীতির কারণেই ক্ষমতাসীনদের মস্তিস্কে গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র এবং অরুচিকর বক্তব্য দিয়ে সরকার খালেদা জিয়াকে হেয় করতে পারেনি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অজস্র উস্কানি সত্বেও বেগম জিয়া ধৈর্য, সংযম ও সম্ভ্রমের সঙ্গে সবকিছু মোকাবিলা করছেন। হিংসামূলক কুৎসা রটানোর জবাবেও বেগম জিয়া নিজেকে সংযত রেখেছেন। এটাই হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা, বিএনপির সাফল্যের চাবিকাঠি।’

বিএনপি ‘ইনক্লুসিভ পলিটিক্স’ এ বিশ্বাসী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত করতে বিএনপি দৃঢ় বদ্ধপরিকর। এটাই দেশবাসীর আকাঙ্খা।’

‘প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য’ দিয়ে সরকার প্রধান অবাধ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক নির্বাচনী পরিবেশকে কলুষিত করছেন বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আগামী দিনের স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশাকে তিনি দুঃস্বপ্নে পরিণত করছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভ্রান্ত-অবাঞ্ছিত তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে কোনটাই বিশ্বাস করাতে পারবেন না। মিথ্যাকে কখনোই সত্য বলে চালানো যাবে না।’

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত-পদ্মা সেতু নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে তা নিয়ে তিনটি পদ্মা সেতু বানানো যেতো। বর্তমান সরকারের আমলে বেপরোয়া দুর্নীতিকে উন্নয়নের বড় অংশীদার করা হয়েছে। সেজন্য উন্নয়নের অগ্রগতি নেই, আছে শুধু আস্ফালন ও কটুবাক্যের তীব্রতা। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ, কালভার্ট, ফ্লাইওভার, সড়ক-মহাসড়ক, শেয়ারবাজার সবকিছুই লাগামহীন দুর্নীতির এক একটি মাইলফলক। আর এসব দুর্নীতির সাথে ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ ব্যক্তিরাই জড়িত।’

‘সুতরাং দেশের বাইরে বেগম জিয়ার সম্পদের কাল্পনিক ও মনগড়া কাহিনি রচনা করে কোনো ফায়দা হবে না। সরকার প্রধান যে নির্বাচনের আগে জনগণের দৃষ্টির সামনে মিথ্যার ফানুস ওড়াতে চাচ্ছেন সেটি দেশবাসীর অজানা নয়’, বলেন মির্জা ফখরুল।

দেশীনিউজ/তালহা

রাজনীতি