Floating Facebook Widget

তফসিল ঘোষণা ঢাকার নির্বাচনের - Deshi News

১০ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার,দেশীনিউজঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা এ তফসিল ঘোষণা করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর  নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৮ই জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই ২১ ও ২২শে জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯শে জানুয়ারি।

আর ভোট হবে ২৬শে ফেব্রুয়ারি। তফসিল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিইসি। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রচারণায় অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই এবং এক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে না বলে জানিয়েছেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। ২০১৫ সালের মতো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিন মাঝপথে কোন প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘটনা এবার ঘটবে না বলে আশাবাদী প্রধান নির্বাচন কমিশনার। শেষ পর্যন্ত সবাই এই ভোটে থাকবে বলে আশা করছেন তিনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে ইসি আপসহীন মন্তব্য করে সিইসি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কোনো কিছুর সঙ্গে সমঝোতা হবে না। অবশ্যই আমরা আশা করব সব দলই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং শেষ পর্যন্ত থাকবে। আড়াই বছর আগে ঢাকা সিটির ভোটের সময় খালেদা গাড়িবহর নিয়ে প্রচারণায় নেমে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। 

এবার খালেদা জিয়ার প্রচারে কোনো বাধা আসবে কি না- জানতে চাইলে সিইসি বলেন, প্রতিবন্ধকতার প্রশ্নই উঠে না। উনি (খালেদা জিয়া) বা উনার মতো কেউ প্রচারে গেলে কোনো বাধা দেয়া হবে না। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। আগামী সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া নূরুল হুদা বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ দেব আমরা। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোও যেন সহযোগিতা করে। গতবার নির্দলীয়ভাবে হলেও আইন সংশোধনের পর এবার দলীয় প্রতীকে লড়বেন ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থীরা। সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার এই উপ-নির্বাচনকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীর এ ভোটটি আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ তো বটেই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, আমরাও এটাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্যে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমসহ সবার তৎপরতাও থাকবে বেশি। এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা বলেন, আমরা আপসহীন থাকব। 

কোনো কিছুর সঙ্গে সমঝোতা করব না। সবার অংশগ্রহণমূলক একটা নির্বাচন চাই আমরা। সকলে মিলে ভালো নির্বাচন করব। এজন্যে সরকারের সহযোগিতা দরকার। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটারসহ সবার সহায়তা করতে হবে। ঢাকা সিটির এ ভোট উৎসবমুখর হবে বলে আশা রাখেন নূরুল হুদা। ভোটকেন্দ্রে কোনো গণমাধ্যমকে বাধাও দেয়া হবে না। তবে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা যেন নীতিমালা মেনেই কাজ করে সেদিকে নজর রাখতে হবে। আগাম প্রচারণামূলক সামগ্রী নির্ধারিত সময়ে না সরানোয় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নূরুল হুদা। 

ঢাকা উত্তরে নির্বাচন না হওয়ার যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সিইসি বলেন, কেউ মামলা করলে তো তা নিয়ে ইসি‘র করার কিছু নেই। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের মতো ঢাকা উত্তর সিটিতে একটি এবং দক্ষিণ সিটিতে একটি ইভিএম ব্যবহার করার চিন্তা আছে। যদি সব কিছু ঠিকঠাক থাকে আর যদি কারো কোনো আপত্তি না থাকে তাহলে দু’টি ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮শে এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোট হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন সদ্য প্রয়াত আনিসুল হক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০শে নভেম্বর তার মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ১লা ডিসেম্বর থেকে ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করে। আইন অনুযায়ী ৯০ দিন অর্থাৎ ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ উপ-নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া দুই সিটির আশপাশের ইউনিয়নযুক্ত করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ড গঠন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর গত বছর ৮ই আগস্ট এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট করতে ইসিকে অনুরোধ জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

দেশীনিউজ/সিরাজী এম আর মোস্তাক

জাতীয়