Floating Facebook Widget

‘চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিরোধে বিজিবি-বিএসএফ এক যোগে কাজ চলছে’ - Deshi News


১০ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার,দেশীনিউজসীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেছেন, ‘সীমান্তে গুলি করে মানুষ হত্যা কোনো অবস্থাতেই মানবিকভাবে কারো কাছে গ্রহণ যোগ্য নয়। মানুষ অন্যায় করতে পারে। সেজন্য অন্য যে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলা উচিত নয়। মানুষ মেরে শান্তি থাকা যায় না। তাই মানুষ হত্যা বন্ধে আমরা বিএসএফের উপর চাপ সৃষ্টি করছি। যাতে সীমান্তে গুলি করে আর কোনো নিরীহ মানুষ হত্যা কান্ডের ঘটনা না ঘটে সেজন্য বিজিবি-বিএসএফ যৌথভাবে ডিজিটাল বর্ডার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু সীমান্তকে অপরাধমুক্ত অঞ্চল ঘোষনা করারও কাজ চলছে।’  

মঙ্গলবার দুপুরে (৯ জানুয়ারি) লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা সানিয়াজান নদীর ধারে জমগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় অসহায় লোকজনদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ পূর্ব এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর আঞ্চলিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম সাইফুল ইসলাম, রংপুর-৭বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোঃ মাহফুজ উল বারী, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ, পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম নাসির উদ্দিন ও বাউরা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বসুনীয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় ৫ শতাধিক অসহায় লোকজনকে কম্বল ও তিনশতাধিক লোকজনকে সোয়েটার প্রদান করা হয়।   
ডিজি মেজর জেনারেল আবুল হোসেন আরো বলেন, ‘হিলিসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর সীমান্তে ডিজিটাল স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট চালু করার কাজ চলছে। কারণ সীমান্ত পথে চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুধু ভারত-বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়; এটি সারা বিশ্বের জন্যই সমস্যা। এজন্য এটি উভয় দেশের জন্য কমন ইস্যু। যাতে সমস্যা সমাধান করা যায়, সেজন্য উভয় দেশের ডিজি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে সমাধানে বিজিবি-বিএসএফ মাঠ পর্যায়েও আলোচনা চলছে।’   
বিজিবির জনবল সংকটের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতোমধ্যে জনবল নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

যেসব সীমান্তে বিজিবির ক্যাম্প নেই, সেসব সীমান্তে ক্যাম্প নির্মাণ ও যৌথ সীমান্ত টহল সহজ করতে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে এক চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সীমান্তে হত্যা কমেছে। তবে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। কিছু দিনের মধ্যেই সীমান্ত হত্যা আর যাতে না ঘটে, সেজন্য বিএসএফ কাজ করছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে মেজর জেনারেল তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধে বিজিবির পক্ষে এককভাবে সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেক নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ আপনাদের সহযোগিতা বিজিবির প্রত্যেকটি সদস্যকে কাজে অনুপ্রাণিত করে। বিশ্বে আমরা মানবিক ও বীরের জাতি হিসেবে পরিচিত। কয়েক লাখ বাস্তুহারা রোহিঙ্গাকে সাময়িক থাকার জায়গা করে দিয়ে আমরা পৃথিবীতে এক মানবিক জাতি হিসেবে ‘মাদার অফ হিউমিনিটি’ পুরস্কার ভূষিত হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এজন্য মানবিক বিষয় মাথায় রেখে প্রত্যেকেই সীমান্ত সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।’    

দেশীনিউজ/পাটগ্রাম/শামসুদ দোহা

জেলা সংবাদ