Floating Facebook Widget

আ.লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আ.লীগ - Deshi News

২৩ ডিসেম্বর ২০১৭,শনিবার,দেশীনিউজফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও স্বস্তিতে নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী। ২৮ ডিসেম্বর এ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান ওরফে সাইফারের (নৌকা) অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে রয়েছেন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মকিবুল হাসান ওরফে পুটু মিয়া (জগ)।

এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক খান আতাউর রহমান (ধানের শীষ)।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে, মেয়র পদের এ নির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের সাইফুর রহমানের সঙ্গে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী মকিবুল হাসানের।

তবে বিদ্রোহী এই প্রার্থীকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কোনো রকম আমলেই নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফার। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই আমার ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারবে না। নির্বাচনে নয় হাজার ভোট কাস্ট হলে আমি একাই ছয় হাজার ভোট পাব। (এ পৌরসভার মোট ভোটার ১০ হাজার ৮৮২ জন)।’ মকিবুল হাসান দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পারেন—মন্তব্য করে সাইফার বলেন, ‘তবে তিনি দুই হাজার থেকে দুই হাজার দু শর বেশি ভোট পাবেন না।’

তবে এ নির্বাচনে নিজের বিজয় সম্পর্কে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে মকিবুল হাসান বলেন, ‘নির্বাচনে আমিই জয়লাভ করব।’ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই সঠিক হয়নি। এ জন্য এলাকার আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতারা আমাকে তাঁদের সমর্থন জানিয়ে দাঁড় করিয়েছেন।’ সাইফারের দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনি (সাইফার) হয়তো ভোট কাটার স্বপ্ন দেখে এ হিসাব কষছেন। ভোট কেটে নেওয়া হলেই শুধু এ-জাতীয় ফল হতে পারে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তাঁর (সাইফার) এ স্বপ্ন সফল হবে না।’ নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন নিরপেক্ষ আছে বলে মনে করেন মকিবুল। তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। ভোট কাটার সুযোগ কেউ পাবে না।’

এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীসহ মোট পাঁচজন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর দুজন হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সামসুদ্দীন আহমেদ (মোবাইল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ আশরাফ আলী (নারকেলগাছ)। তবে নির্বাচন নিয়ে এই দুই প্রার্থীর কর্মতৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ে না।

বিএনপির প্রার্থী খান আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘হামলা ও হুমকির ভয়ে আমি ঠিকমতো প্রচারকাজ চালাতে পারছি না। আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমার সঙ্গে যারা কাজ করে, তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আমি প্রচারণার কাজে ঠিকমতো কর্মী পাচ্ছি না।’

আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী সামসুদ্দীন আহমেদ বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

দেশীনিউজ/কামাল হুসাইন 

জেলা সংবাদ