Floating Facebook Widget

মডেল নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত আইনশৃংখলা বাহিনী : ডিআইজি - Deshi News

২০ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার,দেশীনিউজপুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম পিপিএম বলেছেন, জনগণকে ভয় দেখাতে নয়, উৎসব মুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ মডেল নির্বাচন উপহার দিতেই আইনশৃংখলা বাহিনীর নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেস্টনি গড়ে তুলেছে রংপুর মহানগরী এলাকায়। আইনশৃংখলাবাহিনীর তৎপরতা হবে জনগণের সাথে ভালো ব্যবহার করে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর হওয়া। 

বুধবার রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে সিটি নির্বাচন উপলক্ষে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এ সময় রংপুরের ডিসি মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, জেলা আনসার কমান্ডেন্ট আব্দুস সালামসহ দায়িত্বরত বিভিন্ন পর্যায়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংকালে ডিআইজি বলেন, ডিআইজি বলেন, আমরা চাই এমন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে। যাতে বাংলাদেশ এবং বিশ্বে যেখানেই নির্বাচন হবে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনটি যেন সেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার মডেল নির্বাচন হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। সেটি মাথায় রেখেই আইনশৃংখলাবাহিনীকে কাজ করতে হবে।

ডিআইজি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন চায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাই তাদের চাওয়া পূরণ করতে আমাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। আমরা পর্যাপ্তের চেয়েও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি। নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের কোনো সংশয় নেই। আমাদের জনবলের কোনো কমতি নেই। কেউ ন্যুনতম কোনো ঝামেলা করার চেষ্টা করলে ১ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে সেখানে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির মোবাইল টিম ভ্রাম্যমাণ আদালত হাজির হয়ে যাবে। সুতরাং আপনারা অপরাধীদের অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করবেন।

এসময় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উদ্দেশে ডিআইজি বলেন, কোনো আনসার ও পুলিশ সদস্য ভোট গণনার সময় খরে থাকবেন না। সেখানে পোলিং এজেন্ট ও নির্বাচন কমিশনের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা থাকবেন। আপনারা গণনাস্থলের বাইরে কর্ডন করে রাখবেন। এসময় তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোনো পোলিং এজেন্ট গণনার সময় যেন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে, প্রস্রাব করার জন্য বাইরে আসতে না পারে। বাইরে এলে তিনি আর গণনাকক্ষে যেতে পারবেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে আনসার ও পুলিশ সদস্যদের। কোন ভোটারকে ভোট দিতে বুথে ঢুকবেন না আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। তারা যেন কখনই কোন সিল হাতে না নেয়। যদি কারো বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার চাকরি থাকবে না। কেন্দ্রে দায়িত্বররা মোবাইল টিমের সাথে সমন্বয় করে চলবেন। সকালের দিকে সাধারণ ভিড় বেশি হয়ে ভোটারদের। তাই তাদের লাইন করে দেবেন।

তিনি আনসার ও পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, আপনারা কোনো প্রার্থী, সাধারণ মানুষ, ভোটার কিংবা পরিচিত লোকজনের কাছে কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ করবেন না। কিংবা তাদের দেয়া খাবার খাবেন না। কারো কাছে কিছুই খাবেন না। পান সিগারেট চাও নয়। আমরা যে নগদ টাকা দেব, তা থেকেই খাবেন। প্রয়োজনে সকালে ভালো নাস্তা করে নিয়ে দুপুরে কলা-রুটি খাবেন। তারপর রাতে খাবেন। তিন দিন পেটভরে না খেলেও আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন। তাই যদি না খেয়েও থাকতে হয়, তবুও কারো কাছ থেকে খাবেন না। 
ডিআইজি আনসার ও পুলিশ সদস্যদের সাবধান করে দিয়ে বলেন, প্রতি সেকেন্ডে আপনাদের কর্মকাণ্ড ভিডিও হবে। দেশ বিদেশে শত শত ক্যামেরার পাশাপাশি আইনশৃংখলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ক্যামেরা থাকবে আপনাদের দিকে। সুতরাং কেউ দায়িত্ব অবহেলা হওয়া মাত্রই তা ক্যামেরাবন্দি হবে। এতে আপনাদের চাকরির সমস্যা হবে। 

পরে পুলিশ লাইন মাঠ থেকে আনসার ও পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্র পাঠানো হয়।

এদিকে বেলা সাড়ে ১২টায় পায়রা চত্বরে র‌্যাব মহড়া দেয়। 
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে রংপুর সিটির ভোট।

দেশীনিউজ/আবু হানিফ

জেলা সংবাদ