Floating Facebook Widget

মেয়র আনিসুলের লাশ আজ আসছে - Deshi News

 ০২ ডিসেম্বর ২০১৭,শনিবার,দেশীনিউজঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের লাশ দেশে আসছে আজ শনিবার সকালে। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সকাল ১১টায় তার লাশ ঢাকায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২২ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। গতকাল  শুক্রবার লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর আনিসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আজ শনিবার দেশে পৌঁছানোর পর বাদ আসর রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এদিকে  মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ন্যাপ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ট্রেডকেন্দ্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শোক জানিয়েছে। 

মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে পহেলা ডিসেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এ জন্য আগামী রোববার ডিএনসিসি বন্ধ থাকবে। গতকাল শুক্রবার বিকালে ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ শনিবার (২ ডিসেম্বর) বাদ আসর আর্মি স্টেডিয়ামে মেয়র আনিসুল হকের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

গত ২৯ জুলাই সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। এরপর অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি মস্তিস্কে  প্রদাহজনিত বিরল রোগে ভুগছিলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মরহুম  মেয়র আনিসুল হককে স্মরণ করতে গিয়ে কাঁদলেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

শুক্রবার বিকেলে মেয়র সাঈদ খোকনের বনানীস্থ নিজ বাসভবনে মরহুম মেয়র আনিসুল হক প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন।

সাঈদ খোকন বলেন, ‘আনিসুল হকের মৃত্যুটা  আমাদের জন্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ছিলো। হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থ হয়ে যাবেন এটা কল্পনাও করতে পারিনি। দীর্ঘদিন রোগের সঙ্গে লড়ে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন- এটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি, ভাবতেও পারিনা।

সম্পর্কের কথা উল্লেখ  করে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো। প্রতিদিন আমরা সকালে কুশল বিনিময় করতাম। শহরের নানান সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় উদ্যোগ নিতাম। হঠাৎ করেই এমন একটা ঘটনা ঘটবে এটা আমার কল্পনারও বাহিরে ছিলো। আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। আমরা অত্যন্ত শোকাহত।

এসময় তার যে শূন্যতা তৈরি হবে সে শূন্যতা খুব শহজে পূরণ হবে না বলেই চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেননি সাঈদ খোকন।

বর্ণাঢ্য জীবন 
আনিসুল হক ১৯৫২ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশবের একটি বড় সময় কাটে ফেনীর সোনাগাজীর নানার বাড়িতে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি স্ত্রী রুবানা হক, দুই কন্যা ও এক ছেলে রেখে গেছেন। শরিফুল হক ও রওশন আরা বেগম দম্পতির বড় সন্তান আনিসুল হক। তাঁর ছোট ভাই আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বর্তমানে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্ণাঢ্য জীবন ছিল আনিসুল হকের। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের মেয়র নির্বাচনে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও তিনি বিপুল জনপ্রিয় ছিলেন। আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বড় ছেলে নাভিদুল হক দেশ এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক মেয়ে ওয়ামিক উমায়রা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওতে কর্মরত এবং আরেক মেয়ে তানিশা ফারিয়াম্যান হক মোহাম্মদী গ্রুপের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। মেয়র হওয়ার আগে ব্যবসায়ী হিসেবে তিনিই মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন।

আনিসুল হক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের তৈরি পোশাক খাত, জ্বালানি খাত, তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যম খাতের সঙ্গে জড়িত। পোশাকমালিকদের সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি সার্কভুক্ত দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের সংগঠন সার্ক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত।

আশির দশকে আনিসুল হক বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় উপস্থাপক হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর উপস্থাপনায় বিটিভির ঈদের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আনন্দমেলা, রাজনীতিবিষয়ক অনুষ্ঠান মুখোমুখিসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

দেশীনিউজ/আবু ইউসুফ

স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা