Floating Facebook Widget

পতিতাবৃত্তির কারণ ও প্রতিকার - Deshi News

২৭ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, দেশীনিউজসামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম একটি মাধ্যম পতিতাবৃত্তি। আমাদের সামাজিক জীবনে সংঘটিত অশান্তির সর্বক্ষেত্রেই যৌন অপরাধকে মূল নিয়ামক হিসেবে গণ্য করা হয়। এর কারণেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা-আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি ইত্যাদি ব্যাধিগুলোর বিকাশ ঘটে। আর যদি একটু ভালভাবে চিন্তা করি তাহলে দেখব, পতিতাবৃত্তি বা যৌন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পেছনে ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চাইতে দারিদ্র্যতা সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করে

আমার দেখা যৌন অপরাধের সামাজিক শালিস-বিচার বিশ্লেষণ করে যা বুঝতে পারলাম তাতে কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারি অধিকাংশ নারী যৌন অপরাধে নিজেকে জড়িয়ে দেয় শুধুমাত্র স্বামী, সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর যখন অন্ন জোগাড় করার কোন ব্যবস্থা তার সামনে থাকে না, তখন সমাজের একশ্রেণীর লম্পট লোক প্রথম দিকে তার হিতাকাংখী সাজে পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে যৌনতার দিকে ধাবিত করে। এসমস্ত নারীরা যখন সমাজপতিদের সালিশের মুখোমুখি হয়, তখন হাজারো কারণ দর্শালেও সমাজের কাছে তারা ধিক্কার ছাড়া আর কিছুই পায় না

আমাদের সমাজে পতিতাদের ব্যাপারে যে ঘৃণা ছড়িয়ে আছে তাতে করে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, আমার আজকের লেখা নিয়েও আমি কিছু লোকের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারি। তাহলে বুঝা গেল যে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা রোগ থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার উপায় বের করার চেয়ে রোগী থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখাকে অনেক বেশী গুরুত্ব দেয়। অবস্থার পরিবর্তন হলে হয়তো আমরা পতিতাদের পূণর্বাসন করে স্থায়ীভাবে সামাজিক অবক্ষয় থেকে বাঁচার পথে হাঁটতে পারি। এতে আমার আপনার নিকটতম কোন নারী নিজের দেহকে ভোগের সামগ্রী হিসেবে বিলিয়ে দেবে না আর আমার আপনার ভাই-বন্ধুরা সমাজের অন্ধকার গলিতে হাঁটাহাঁটি করবে না

আসুন দেখি আমাদের সমাজে পতিতাবৃত্তির মূল কারণগুলো কী-
.    স্বামী পরিত্যক্তা নারী যখন নিজের পরিবার সমাজের কাছ থেকে তড়িৎ কোন পূণঃর্বাসনের ব্যবস্থা পায় না,
. দরিদ্র পরিবারের কোন মেয়ে যখন যৌতুকের দায়ে বিয়ের বয়স পার হয়ে গেলেও কারো ঘরে গৃহবধু হওয়ার ভাগ্য হয় না,
. অপরিহার্য কারণে যখন অর্থের একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়ে,
. ধনী বাবার লাগামহারা আত্মবিলাসী কন্যা বন্ধুদের সাথে অবাধে বিচরণ করা,
. সমাজের লম্পট শ্রেণী যখন বারবার কোন নারীকে লোভনীয় অর্থের প্রস্তাব দিয়ে কাজে ধাবিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে,
. কিডন্যাপের কারণে অসহায় কোন মেয়ে বা নারী,
. অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত,
. ক্রমবর্ধ্বমান ভাবে এবং প্রশাসনের এক প্রকার পৃষ্ঠপোষকতায় মাদকের আমদানী, উৎপাদন বিপনন,
. নারী-পুরুষের অবাধে বিচরণ,
১০. ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে উদাসীনতা ইত্যাদি

এসব কারণগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সমাজ থেকে পতিতাবৃত্তি যৌন অপরাধ দুরীকরণে সমাজের এক একজন সদস্য থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পর্যন্ত আমরা সবাই নিম্নোক্ত উদ্যোগগুলো হাতে নিলে আমাদের সমাজে কোন নারী এহেন কাজে আত্মনিয়োগ করবে না-
.    বর্তমান পতিতালয়গুলোকে কর্মসংস্থান উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা অর্থাৎ ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের ব্যাপক প্রসার,
. যৌন কর্মীদের অধিকাংশ অজানা আশংকায় কোন ভাল মানুষের কাছে ঘেষতে চায়না; তাদের মনের এই হতাশা দূর করার জন্য এবং তাদেরকে এপথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য আত্মসচেতন কোন একটি গ্রপকে ধীরে ধীরে এসব যৌনকর্মীর কাছে পৌছতে হবে এবং তাদেরকে ক্রমান্বয়ে এই অন্ধকার পথ থেকে কর্মসংস্থানের পথে নিয়ে আসতে হবে,
. বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের জন্য পূণর্বাসন উপার্জনের ব্যবস্থা করা,
. নারী নির্যাতন যৌতুক প্রথাকে জেনা ব্যাভিচারের চেয়েও জঘন্য অপরাধ মনে করে ঘৃণা করা,
. হোটেল ব্যবস্থাপনার উপর সক্রিয়ভাবে প্রশাসনিক নজরদারী রাখা,
. মাদকের ব্যবহার উৎখাত করার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ,
. কিডন্যাপ ব্ল্যাকমেইলকারী চক্রকে চিিহ্নত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া,
. ইন্টারনেট মাল্টিমিডিয়ার উপর কড়া নজরদারী রাখা যাতে যৌনতাকে উৎসাহিত করার মতো কোন প্রচার প্রচারণা না হতে পারে,
. ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য অপরাধের ইহ পারলৌকিক পরিণামের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার জন্য ধর্মজ্ঞানীদের আরো বেশী সক্রিয় হওয়া (ওয়াজ-মাহফিলে শুধু সরকার রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করার কোন লাভ নেই),
১০. মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমে অবহেলিত নারীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থানের জন্য আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা রাখা,
১১. বেসরকারীভাবে শুধুমাত্র যৌন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কোন সংস্থা গঠন করে সার্বক্ষনিকভাবে এবং বাস্তবপদক্ষেপের মাধ্যমে তৎপর থাকা,
১২. সমাজপতিরা শুধু সালিশের মাধ্যমে জরিমানা শাস্তির বিধান রাখলে চলবে না এসব অপরাধীদের ভৎর্সনার পাশাপাশি সমাজের একজন অভিভাবক হিসেবে পরবর্তীতে যাতে একই ব্যক্তির দ্বারা এহেন অপরাধ সংঘটিত না হয় সেজন্য অসহায় নারীদের পূণর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে

আমাদের দেশে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন তারা এসব কাজে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করেন না এবং অনেক ক্ষেত্রে কতিপয় অসাধু রাজনীতিবিদ যৌনতা অশ্লিলতাকে প্রশ্রয় দিয়ে এগুলোর প্রসারে পরোক্ষভাবে জড়িত হয়ে যান। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে যৌন অপরাধকে নির্দিষ্ট শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিিহ্নত করা হলেও বর্তমানের ধর্মীয় দৃষ্টিকোন আর তৎকালীন ধর্মীয় দৃষ্টিকোনের সাথে কোন মিল নেই। তাই আলেম সমাজকে সচেতনভাবে এসব কাজে ভূমিকা রাখার অনুরোধ করছি। মসজিদে জুম্মার খুতবায় সামাজিক কিছু ব্যধি থেকে দুরে থাকার জন্য মানুষকে উপদেশ দিতে হবে। পাড়ায় মহল­ায় শীতকালীন সময়ে যেসব ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয় এগুলোতে বর্তমানে অধিক হারে আলেমগন রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন (উদ্দেশ্য মূলক কি না জানিনা), তবে এই প্রবণতা দূর করে ধর্মীয় মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনায় জোর দেওয়া দরকার

কোন নারী সখের বসে নিজের সতিত্ব বিলিয়ে দেয় না। একজন নারী একদিনে কতবার কতজনের সাথে যৌন সংশ্রবে লিপ্ত হলে তাকে প্রবৃত্তির লালসা বলে ধরে নেওয়া যায়? যে নারীটি এক দিনেই একাধিক ব্যক্তির সয্যাসঙ্গী হয় সেতো তৃপ্তি লাভ করার খেয়ালে এটা করেনা, নিশ্চয় সে অমানবিকতার পাশবিকতার কাছে নিজেকে একজন মানুষ হয়েও ভোগের সামগ্রী হিসেবে উপস্থাপন করেছে। হয়তোবা নিজের সন্তানের পেটে অন্নের যোগান দিতেই একপর্যায়ে তাকে এই পথে আত্মনিয়োগ করতে হয়েছে। আমি আর আপনি এত সুখে থেকে এদের এই দুঃখ বুঝার উপলব্দি নাও থাকতে পারে। তাই, আসুন পতিতাদের ঘৃণা করে পতিতাবৃত্তিকে আরো বেশী গতিশীল না করে একএকজন নারীর পতিতাবৃত্তির প্রকৃত কারণ চিহ্নত করে এর প্রতিকারে বাস্তবসম্মত উপায় অবলম্বন করি

দেশীনিউজ/নোয়াখালী প্রতিনিধি/তাজুল ইসলাম তছলিম   

অন্যান্য খবর