Floating Facebook Widget

ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঘুষ ও দুর্নীতি করে এখন অর্ধশত কোটি টাকার মালিক,দুদকের তদন্ত দাবী - Deshi News

১১ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার,দেশীনিউজব্যাপক ভাবে ঘুষ, দুর্নীতি শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার সহ অফিসে ব্যাপক অনিয়নের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোকছেদ আলীর বিরুদ্ধে। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবর শাস্তি ও বদলীর জন্য অভিযোগ করেছেন ঝিনাইদহ জেলা বে-সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে মোঃ আব্দুল মান্নান নামের এক শিক্ষক। অভিযোগ পত্র সুত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি মোতাবেক কোন উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তার নিজ জেলায় থাকার বিধান না থাকলে উপর মহলের ম্যানেজ করে ০১/০৮/২০১৬ তারিখ থেকে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা গেছে, সে এর আগে ৩১/১২/২০০২ হতে ১৪/১২/২০০৩, ০১/০৬/২০০৪ হতে ১৬/০৬/২০০৫ ও ১৪/১১/২০১১ হতে ০/০৪/২০১৪ ইং তারিখ পর্যন্ত ৩ বার এই জেলায় শিক্ষা অফিসার হয়ে এসেছেন। বর্তমানে ৪র্থ বারের মত ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার। 

প্রতিবার সে শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ সহ বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতিতে জড়িয়ে আছে বলে জানা যায়। এই শিক্ষা অফিসার দিনের পর দিন দুর্নীতি করার জন্য বিশ্বস্ত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ বানিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাবাদ গাড়ির তেল খরচের জন্য ৮/১০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য মোটা অংকের টাকা তাকে দিতে হয়, না দিলে শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি প্রদান করে না। সে নিজে অফিসে আসে সকাল ১০টার পরে এবং ২টায় চলে যায়। যার কারনে অফিসের পরিদর্শকগন অনেক সময় অফিসে বসে সময় কাটান অথবা অফিসে আসে না। অফিসে কোন কাজের জন্য শিক্ষকদের ঘুরতে হয় মাসের পর মাস, দেখার যেন কেউ নেই। এব্যাপারে গত ৫ ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার ও ৮ ই অক্টোবর রবিবারে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বৃহস্পতিবারে সকাল ১০ টা পর্যন্ত পিয়ন, ড্রাইভার অফিস সহকারী সহ ৫জন উপস্থিত ছিলেন। সে এবং তার কোন পরিদর্শক আসে নাই। এপ্রসঙ্গে গত ৭ ই অক্টোবর শনিবার কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত “দৈনিক আন্দোলনের বাজার” নামক পত্রিকায় "ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের বেহাল দশা" এই শিরনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাছাড়া গত রবিবারে তাকে ৯টার পরিবর্তে ৯টা ২৪ মিনিটে অফিসে আসতে দেখা যায়। এসময়ে পিয়ন ড্রাইভার অফিস সহকারী ছাড়া কোন পরিদর্শক অফিসে উপস্থিত ছিল না। 

ঝিনাইদহের গ্রামের স্কুল গুলো থেকে অনেক শিক্ষক বিভিন্ন কাজের জন্য আসলে ও শিক্ষা অফিসার সময় মত অফিসে উপস্থিত না হওয়ার কারনে তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাহাতে ব্যাঘাত ঘটছে স্কুল গুলির লেখাপড়ার। এই ভাবে যদি একটি জেলায় শিক্ষা অফিস চলতে থাকে তাহলে শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল হবে না এইটাই স্বাভাবিক। শুধু নিজ অফিসেই নয় জেলা প্রশাসকের সমন্ময় মিটিং এ দেরি করে পৌঁছানোর রেকর্ড আছে এই কর্মকর্তার। জেলার অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির ডিজিটাল হাজিরার ব্যাপারের তাগাদা দেওয়া হলেও এই অফিসে এখন ও ডিজিটাল হাজিরা মেশিং লাগানো হয়নি। যার কারনে এইটি যেন নিজের বাড়ি, কাজের নেই কোন দায়বদ্ধতা। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষা অফিসার ঘুষ দুর্নীতি করে ঝিনাইদহ শহরের উপশহর পাড়ার সি এন্ড বির পুকুর পাড়ে গড়ে তুলেছে কয়েক কোটি টাকা মুল্যের ৫ তলা বিশিষ্ট বিশাল আলিসান বাড়ি। নিজ গ্রাম মহেশপুর উপজেলার পীরগাছা ইউনিয়নের পান্তাপাড়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন বিশাল গরুর ফার্ম ও ২০ বিঘা জমির উপর তৈরি করেছেন মৎস্য খামার। 

তাছাড়া এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অফিসার মোকছেদ আলীর বাবার ৪ বিঘা জমি ছিল। এখন সেই মোকছেদ আলীর পান্তাপাড়া গ্রামের মাঠে ৬৫ থেকে ৭০ বিঘা জমি এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বাজারে কোটি টাকা মুল্যের জমি রয়েছে। সে এই বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়েছে শিক্ষা অফিসের দুর্নীতির মাধ্যমেই। 
ঝিনাইদহের শিক্ষক নেতারা এই বিশাল সম্পত্তি গড়ে তোলার উৎসের ব্যাপারে দুদুকের তদন্তের দাবী তুলেছেন। এই প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোকছেদ আলীর নিকট মোবাইলে জানতে চাইলে সে বলেন আমি নিয়মিত অফিসে আসি না সেটা আপনি কি ভাবে জানেন? ঘুষ দুর্নীতির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে বলেন আপনি অফিসে আসেন আপনার সাথে সামনা সামনি কথা বলব বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন।

দেশীনিউজ/ঝিনাইদহ প্রতিনিধি/জাহিদুর রহমান তারিক

অপরাধ জগৎ