Floating Facebook Widget

অর্থবছরের শুরুতেই মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী - Deshi News

১০ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার,দেশীনিউজ: জিনিসপত্রের দাম যে ঊর্ধ্বমুখী চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সূচনাতে জুলাই মাসেই মূল্যস্ফীতির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠাই তার ইঙ্গিত বহন করছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিই এখন ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার জুলাই মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই মাসে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আরো দাম দিয়ে দেশের মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনতে হয়েছে। তবে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আগাম বন্যায় চালের দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এসইসি-২ সম্মেলন কক্ষে একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ এই তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যুরোর দেয়া তথ্যানুযায়ী, খাদ্য খাতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখন অনেক বেশি। আগের অর্থবছরের জুলাই মাসে যেখানে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সেখানে চলতি অর্থবছর সেটা হয়েছে ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি, দুটোর হারই বেশ বেড়েছে। সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার আগের বছরের জুলাই মাসের ৪ দশমিক ৫ শতাংশের তুলনায় এ বছর একই সময়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ। আর খাদ্য খাতে এটি ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিবিএসের তথ্যে শহরে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কম দেখানো হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী শহরে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার গত বছরের জুলাইয়ের ৭ শতাংশের তুলনায় এ বছর একই সময়ে এই হার ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার আবার বেড়েছে।

গত বছর জুলাইয়ের ৬ দশমিক ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে এ বছর একই সময়ে তা ৭ দশমিক ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কমেছে খাদ্য বহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতির হার। এটি গত বছরের ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিবিএস ব্যাখ্যায় বলছে, মাছ, গোশত, শাকসবজি, ফল, মসলা, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় দ্রব্যাদি এবং অন্য খাদ্যসামগ্রীর মূল্য চলতি বছরের জুলাই মাসে বেশি ছিল।

জুনের তুলনায় জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক পণ্যের দাম কমেছে। মে মাসে সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রতি টন ৭১৪ মার্কিন ডলার। জুন মাসে তা কমে দাঁড়ায় ৭০৫ ডলারে।

অন্য দিকে মে মাসে চিনির দাম ছিল প্রতি টন ৩৪৬ ডলার, যা জুন মাসে ৩০৩ ডলার হয়েছে। তবে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। মে মাসে চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৪০৩ ডলার। জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪৫ ডলার। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম আরো কমবে বলে তিনি মনে করেন। এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে চালের দাম বাড়ে। গ্রামে চালের দাম বাড়ে না।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে রাখার ল্য ঠিক করা হয়েছে।

দেশীনিউজ/আবু ইউসুফ

জাতীয়