Floating Facebook Widget

গরুর খামারে বদলে গেলো বেবির জীবন - Deshi News

সিলেট: আর্থিক অসচ্চলতা ঘেরা স্বামীর সংসারে বেবি আক্তার। স্বামী দুধ কিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুধ বিক্রি করতেন। সেভাবেই কোনমতে চলছিলো সিলেট শহরতলীর আলুরতল এলাকার বেবির সংসার।

২০০১ সালে বেবি সাত হাজার টাকার বাছুর কিনে একটি ডেইরী ফার্মের স্বপ্ন দেখেন। বর্তমানে বেবীর খামারে রয়েছে ২৭ লাখ টাকার গাভী। ৩৬ টি গাভী থেকে প্রতিদিন আড়াই শতাধিক লিটার দুধ সংগ্রহ করেন। বাছুর বিক্রি করেও আয় হয় তার।

মাত্র ১৩ বছরে বেবি এখন অনেকের কাছে প্রেরণা। বেবির দেখাদেখি অনেক নারী গরুর খামার গড়তে উৎসাহিত হচ্ছেন। বেবি অনবরত দিয়ে যাচ্ছেন পরামর্শ আর সহায়তা। গরুর খামারের পাশাপাশি বেবি এখন একটি মৎস খামার গড়ে তুলেছেন।

সিলেট শহরতলীর আলুরতল এলাকায় বেবির এই সফল খামার বাড়িতে ঘুরে আসা যাক। টিলাগড় ইকোপার্ক পেরিয়ে আলুরতলের দিকে গিয়ে সেখানে যে কাউকে বললেই হবে ‘বেবি আপার বাড়ি যাবো।’ সবাই জানেন বেবি কিভাবে জীবনে সফল হলেন। যেন জিরো থেকে হিরো হয়ে ওঠার গল্প সবার সামনেই। বেবি ডেইরী ফার্ম-নামের বাড়িতে বেবির কর্মব্যস্ত দিন।

গাভী-বাছুরের যত্ন নিতেই সারাদিন কেটে যায় বেবির। নিজের ঘরের সামনে খামার ঘর। কখনো ঘাস দেওয়া, গরু ঘর পরিষ্কার-এভাবেই চলছে বেবি আক্তারের দিনকাল। গরুর খামার ঘরের সঙ্গে আছে একটি গ্যাসপ্লান্ট। পুরো এলাকায় গ্যাস না থাকলেও তার ঘরের চুলায় গ্যাস আসে খামারের বর্জ্য থেকেই।

আলাপকালে বেবি বললেন, গরুর খামার তার জীবন বদলে দিয়েছে। মাত্র সাত হাজার টাকার বাছুর থেকেই যাত্রা। এখন খামারেই আছে প্রায় সাতশ লাখ টাকার ৩৬ টি গাভী। গাভী-বাছুর ও দুধের আয় থেকে ২০০৯ সালে ৪ লাখ টাকা দিয়ে আলুরতল এলকায় সাড়ে ৭ ডিসিমেল জায়গাও কিনেছেন। এখন সেখানেই তার খামার।

খামারের পাশেই একটি মৎসখামার গড়ে তুলেছেন বেবি। পাঁচমিশালী মাছের চাষ হচ্ছে সেখানে।

বেবি বলেন, ‘১৯৯৭ সালে তিনি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রাণী পালন ও চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। এছাড়া জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের মাধ্যমেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।

বেবি খামার শুরুর হয় ২০০১ সালে। তার আগে বেবির স্বামী আগে গরুর দুধ কিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করে দিন এনে দিন খেতেন।। ২০০১ সালে তিনি একটি বাছুর পালনের মাধ্যমে খামার গড়ে তোলা স্বপ্ন শুরু হয়। আস্তে আস্তে তিনি খামার গড়ে তোলেন। শুরুতে খামার গড়ে তুলতে কিছু এনজিও থেকে ঋণ নেন । তবে তার পরিমাণ ছিলো খুব অল্প।

বেসরকারি সংস্থা ভার্ড থাকে চার হাজার টাকা ঋণ দেয় এরপর পরিশোধের পর আস্তে আস্তে বেশি ঋণ পেতে থাকেন। একসময় বিভিন্ন ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে তিনি খামার বাড়িতে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করতে সক্ষম হন। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।

বেবি আক্তার খুব অল্প সময়ে একটি খামার গড়ে তুলতে সক্ষম হন। প্রাণী পালন ও চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এখন তার প্রতিনিয়ত কাজে লাগছে। গরুর চিকিৎসা ও খাদ্যভ্যাস সম্পর্কে তিনি বেশ অবগত। হঠাৎ গরুর কোন রোগ দেখা দিলেই তিনি নিজেই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

বেবি আরও জানান, তার খামার দেখে অনেকেই উৎসাহিত হয়েছেন। কেউ কেউ খামার গড়ে তোলে সাবলম্বী হচ্চেন। এই ক’বছরে বেবি আক্তারে অর্জনের খাতাও ভরা। তিনি ২০১১ সালে পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন। তারও আগে ২০০৭ সালে তিনি প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের কাছ থেকে পুরস্কার পান। এছাড়া নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছিলেন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে।  

জীবন ও সংস্কৃতি