Floating Facebook Widget

স্টিকার বিড়ম্বনায় রাজধানীবাসী - Deshi News

দেশীনিউজবিডি.কম,

১৩ অক্টোবর ২০১৫,মঙ্গলবার,ঢাকাঃ ঢাকার রাস্তায় বেরুলেই হরেক রকমের গাড়ি আর তাতে হরেক রকমের স্টিকার দেখা যায়। মানতে দ্বিধা নেই সবচেয়ে বেশি স্টিকার সাংবাদিকদের গাড়ি বা মোটর সাইকেলে। টেলিভিশন, দৈনিক পত্রিকা, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, অনলাইন- সব মিলিয়ে অসংখ্য গণমাধ্যম, অগুণতি সাংবাদিক। তাই রাস্তায় বেরুলেই সাংবাদিক’, ‘সংবাদপত্র’, ‘প্রেস’, ‘জার্নালিস্ট’, ‘টেলিভিশনইত্যাদি নানা স্টিকার দেখা যায় গাড়িতে। কোনো কোনো গাড়িতে, বিশেষ করে টেলিভিশনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোগো লাগানো থাকে। অনেক সময় দেখা যায় মোটর সাইকেলে নাম্বার প্লেটের জায়গায় প্রেসবা সাংবাদিকলেখা থাকে। দেখে যেন মনে হয়, সাংবাদিক হলে আর মোটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের দরকার নেই। একবার এক প্রেস মানে ছাপাখানা মালিককে তার গাড়িতে প্রেসলেখা স্টিকার লাগাতে দেখেছি। প্রেসএর মানেই বদলে যায়। এই মানে বদলে যাওয়ার উদাহরণও কম নয়। গণমাধ্যমে কাজ করা সবাই সংবাদকর্মী, তবে সবাই সাংবাদিক নন। পত্রিকার ছাপাখানায় যিনি কাজ করেন, টেলিভিশনের গাড়ি যারা চালান; তারা সাংবাদিক নন, সংবাদকর্মী। কিন্তু কোনো গণমাধ্যমে কাজ করলেই তার ব্যক্তিগত বাহনে সাংবাদিকলেখা স্টিকার লাগিয়ে দাপটের সঙ্গে দাবড়ে বেড়ান অনেকে।

দাপটের প্রসঙ্গে পরে আসছি। তবে শুধু সাংবাদিক বা গণমাধ্যম কর্মীদের গাড়িতেই যে স্টিকার লাগানো থাকে তা নয়; রাস্তায় আরো অনেক বিচিত্র পেশার মানুষের গাড়িতে স্টিকার লাগানো থাকে। বিচারপতি’, ‘আইনজীবী’, ‘মানবাধিকার’, ‘পুলিশ’, ‘র‌্যাব’, ‘ডাক্তার’, ‘শ্যুটিং ইউনিট’ ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’, ‘জাতীয় সংসদইত্যাদি স্টিকার অহরহই চোখে পড়ে। এছাড়া মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতি বা কোনো সাংবিধানিক পদের পতাকাধারী গাড়ি তো আছেই।এখন প্রশ্ন হলো, কেন এই স্টিকার লাগানো হয়? এই প্রশ্নের সত্যি উত্তর হলো, আইন ভাঙার জন্য। যেসব পেশার লোকদের ট্রাফিক পুলিশ সমীহ করতে পারে, তারাই নিজেদের গাড়িতে স্টিকার লাগান।

আমি যতদূর জানি কোনো পেশার লোকদেরই গাড়িতে স্টিকার লাগানোর কোনো আইনগত বৈধতা নেই। তবুও হয়তো ভুল পথে গাড়ি চালাতে বা ভুল জায়গায় গাড়ি পার্ক করতে বা ট্রাফিক হয়রানি থেকে রেহাই পেতে অনেকে এ ধরনের স্টিকার ব্যবহার করেন। আর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘণের এই অভ্যাস তারা শেখেন মন্ত্রী-এমপিদের কাছ থেকে। মিন্টু রোডে দাড়ালে দেখা যাবে মন্ত্রীদের গাড়ি অহরহই ট্রাফিক আইন ভেঙে ভুল পথে চলছে। এমনকি বিচারপতিদেরও গাড়িও ভুল পথে চলতে দেখা যায়। তাদের দেখে অন্য পেশাজীবীরাও অনুপ্রাণিত হয়ে ট্রাফিক আইন ভাঙেন। এভাবেই ঢাকার রাজপথে তৈরি হয় এক অরাজক পরিস্থিতি। শুধু যদি ট্রাফিক আইন ভাঙা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকতো, তাহলেও না হয় কথা ছিল। কিন্তু এমন বিশেষ স্টিকার লাগানো গাড়িতে আরো অনেক বেআইনী কাজ হয় বলে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে। মাদক পরিবহন, অস্ত্র পরিবহনের অভিযোগও আছে। রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যাকারীরা যে মোটর সাইকেলে এসেছিল তাতেও নাকি প্রেসলেখা ছিল। তার মানে স্টিকার দিয়ে একধরনের ফ্রিস্টাইল চলার লাইসেন্স আদায় করে নেয় অনেকে।

বিশেষ পেশার মানুষ পেশাগত কাজে কিছু বিশেষ সুবিধা পেতে পারে। যেমন কোনো আগুন লাগার খবর পেলে আমি রিপোর্টারকে বলে দেই রং সাইড দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে। কারণ দ্রুত না গেলে সে অনেক কিছু মিস করতে পারে। দায়িত্ব পালনের সময় র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রং সাইডে চলাচল করতে পারে। অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সবসময় সবকিছু ছাড়া দেয়াই থাকে। মন্ত্রীদেরও যদি জরুরি কোনো কাজ থাকে, তারাও চলাচলের জন্য বিশেষ সুবিধা নিতে পারেন তাই বলে এটাকে নিয়মে পরিণত করা যাবে না। কিন্তু কোনো বিশেষ পেশার মানুষ যখন ব্যক্তিগত কাজের সময়ও স্টিকার লাগিয়ে বিশেষ সুবিধা নিতে চায়, তখন তা আইনী ও নৈতিক কোনোভাবেই ঠিক হয় না। এমনিতে কোনো জরুরী কাজে আপনি কোথাও যেতে চাইলে বা অসুস্থ কাউকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশকে বুঝিয়ে বললে, তিনি নিশ্চয়ই আপনাকে সাহায্য করবেনআমার প্রস্তাব হলো স্টিকার থাকুক আর নাই থাকুক, ট্রাফিক পুলিশ সব গাড়িকে সমান দৃষ্টিতে বিবেচনা করবে। এটা মানতে হবে মন্ত্রী থেকে শুরু করে সাংবাদিক সবাইকে। তখন তা প্রয়োগ করা সহজ হবে। ট্রাফিক পুলিশ যখন সামনের এমপির গাড়িকে ছেড়ে দেবে, তখন পেছনের গাড়িকে আটকানোর নৈতিক জোর তার থাকে  না। তাছাড়া যে গাড়িতে যে স্টিকার লাগানো আছে, সেই স্টিকার সত্যি কিনা; গাড়িতে যিনি আছেন, তিনি সত্যিই সাংবাদিক কিনা; সেই গাড়িতে বেআইনী কিছু বহন করা হচ্ছে কিনা, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? তাই সন্দেহ হলে পুলিশের সব গাড়ি থামানোর, তল্লাশী করার অধিকার কাজে লাগাতে হবে কঠোরভাবে। জরুরী প্রয়োজনে কেউ বিশেষ কোনো ছাড় চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনটা শুনে ব্যবস্থা নিতে পারে। অচিরেই যথা উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে এটা মহামারি আকারে সমাজে দেখা দিতে পারে। যেটা সমাজ,রাস্ট্র,জতি সহ সবাইকে কলঙ্কিত করবে।

 

 

 

 

 

সম্পাদকীয়