Floating Facebook Widget

নিরাপত্তাহীনতায় দেশী ও বিদেশী নাগরিক - Deshi News

দেশীনিউজবিডি.কম,

৬ অক্টোবর ২০১৫,মঙ্গলবার, ঢাকাঃ হটাৎ করেই যেন উতপ্ত হয়ে উঠেছে দেশ। ইতালীয় নাগরিক তাভেলাকে কূটনীতিক পড়া বলে পরিচিত এবং খুব হাইলি সিকিউড গুলশানে হত্যা করা হয় ও জাপানী নাগরিক  কুনিও হোশিকে রংপুরে হত্যা করা হয়। এই দুটি হত্যা হয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে। দ্বিতীয় হত্যার থেকে প্রথম হত্যা অনেক প্রশ্নের উদ্বেগ হয়েছে সচেতন নাগরিকদের মাঝে। ইতিমধ্যে বিদেশীরা অনিরাপত্তায় ভুগছে কিছুটা হলেও। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিদেশী বিনিয়োগসহ দেশীয় ভাবমুর্তি খুন্ন হবে। এবার একটু দেশীয় নাগরিকদের দিকে লক্ষ্যে করা যাক গতকাল পাবনায় চার্চের যাজক লুৎ সরকারকে হত্যার চেস্টা করা হয় আবার এই রাতেই হত্যা করা হয় পিডিবির সাবেক খিজির খানকে তার মানে বুঝা যাচ্ছে দেশী নাগরিকরাও মুক্ত নয় এই হত্যা থেকে। আইন-শৃঙ্খলা চরম অবনতি হয়েছে তা বলার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। একটা কথা  আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি ও সরকার কে মাথায় রাখতে হবে যে আমারা যদি সব সময় বিরোধীদলকে দমন কারার মানুসিকতা তৈরি করি তাহলে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। বিদেশী শক্তি বা কোন দেশের সংস্থা কতটুকু গুপ্তচর বৃত্তি করছে দেখা দরকার, কিংবা আমাদের দেশের ভিতরে তাদের প্রভাব কতটুকু? গুপ্তচর বা অন্য দেশীয় গোয়েন্দাদের কার্যকর্ম আমাদের সরকারকে সুক্ষভাবে লক্ষ্যে করতে হবে।অতিসত্তর আমাদের দেশে সংগঠিত হত্যার বিচার করতে হবে এবং খুনিদের আইনের আয়োতায় আনতে হবে।

যদি সরাস্ট্রমন্ত্রী কথা ঠিক হয় অর্থাৎ ইসলামি এস্টেট(IS) এর যদি কোন অস্তিত্ত আমাদের দেশে নেই তাহলে আমাদের দেশে বিদেশিদের হত্যা করছে কে? তাহলে এটা ধরে নেওয়া যায় যে সরকার ক্ষমতা কে পাকাপক্ত ও বিরোধীদলকে নির্মুল করার জন্য এই নাটক মঞ্চায়িত করছে! আমরা ইতিমধ্যে লক্ষ্যে করেছি সারাদেশে ধর পাকড়াও শুরু হয়েছে।

আসলেই ইসলামি এস্টেট(IS) কতটা ইসলামের কল্যান বয়ে আনছে? সারা বিশ্বে যেখানে মসজিদ ধ্বংস করছে,ইসলামি এস্টেট(IS)। একটি ইসলামিক দল কখনোই এসব অনাঙ্কাকিত কাজ করতে পারে না। অনাসেই মানুষ হত্যা করা এটা কখনোই মানব কল্যাণ হয়ে পারে না। এগুলি পশ্চিমাদের কারসাজী। ইসলামি এস্টেট(IS) যদি আসলেই মানব কল্যাণে আসতো তাহলে মুসলিম দেশগুলি ইসলামি এস্টেট(IS) এর বিরুদ্বে থাকতে না। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ইসলামের অপপ্রচার এবং মুসলিমদের দমিয়ে রাখতে ইসলামি এস্টেট(IS) একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মডিয়া এবং সরকার যেভাবে জঙ্গি ইস্যু নিয়ে কথা বলে বারংবার তাতে বহিঃবিশ্বের কাছে এটা প্রমআনিত যে বাংলাদেশ জঙ্গিতে পরিপুর্ন। সরকার বিরোধীদল নির্মুলের যে ফর্মুলা আবিস্কার করছেন এটা চলতে থাকলে আমাদের দেশের ভাবমুর্তি বাকিটাও নষ্ট হয়ে যাবে। যে ভাবে দেশী-বিদেশী নাগরিক হত্যা হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় নাগরিকও রাস্তায় বের হতে ভয় পাবে। পাবেই বা না কেন বাসা থেকে বের হলে যদি না ফেরার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে কি করার। বিদেশীদের দিকে তাকিয়ে আমাদের সরকার ভাবছে স্থায়ীভাবে জঙ্গি নির্মুলের কাজটা তারাই পাবেন। বিরোধীদলকে নির্মুল কারার এর থেকে ভাল ফর্মুলা আর হয় না।   

এমতাবস্থায় আমাদের দেশের নিরাপত্তা বৃদ্বি করে দেশী ও বিদেশীদের জানমালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের নিরাপত্তা ও ভাবমুর্তি রক্ষা করার জন্য এটা এখন সময়ের দাবি। যদি তাতেও সমস্যা নিরূপণ না করা যায় তাহলে বিদেশী গোয়েন্দা বাহিনির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। বার্নিকাট সহ অনেক সংস্থা বলেছেন প্রয়োজনে তারা সাহায্যে করবে। আমরা যদি বিদেশী মেহমানদের নিরাপত্তা দিতে না পারি তাহলে আমাদের অর্থনিতী ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বিনিয়গে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে বিনিয়োগ কারিরা। আমাদের যে কথাটা ভুলে গেলে চলবে না দমন-নিপীড়ন করে কোন দেশ সমাজ বা জাতীকে দমিয়ে রাখা যায় না,সাময়িক সময়ের জন্য ঠান্ডা হলেও পরবর্তিতে বিশাল মহামারি আকারে দেখা দিতে পারে। তখন নিজেদের অস্তিত্ত রাখা দায় হয়ে পাড়বে।   


 


 

সম্পাদকীয়