Floating Facebook Widget

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত - Deshi News

২৭ মে ২০১৫,বুধবার : বাংলাদেশে রেলওয়ের উন্নয়নে ভারত ঋণ দেয়ার অজুহাতে সে দেশের রেলের সাথে মিল রেখে মিটারগেজ লাইনের পরিবর্তে এখন ডুয়েলগেজ লাইন করা হচ্ছে, যাতে ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ে করিডোর হলে ভারত সে সুযোগ নিতে পারে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এডিপিতে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় ঋণনির্ভর প্রকল্প হচ্ছে ১২টি। আর আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এডিপিতে ভারতীয় ঋণে রেলওয়ের মোট ১০টি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের চাহিদানুযায়ী ভারতীয় ঠিকাদারেরা ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় একটি প্রকল্প আড়াই বছর পর বাতিল করা হয়। সরকারি টাকায় ১১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালে একনেক সভায় রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়, যেটি ২০১২ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু চার বছরেও এতে কোনো অর্থ খরচ না করে এখন তা ভারতীয় ঋণের টাকায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে এটি করা হচ্ছে প্রকল্প সংশোধন করে লাইনটি ভারতের সীমান্ত শাহবাজপুর বর্ডার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার মাধ্যমে। এর ফলে প্রকল্পব্যয় এখন বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যার মধ্যে ভারতীয় ঋণ পাওয়া যাবে ৫৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। কিন্তু এর সুবিধা পাবে কেবল রেল ট্রানজিট ব্যবহারকারীরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে লাইন ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ে এবং উপ-আঞ্চলিক রেলওয়ে করিডোরের একটি বড় অংশ। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে মালামাল পরিবহন সুবিধা দিতে পারে। যে কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথকে ডুয়েলগেজ করা হচ্ছে। ভারত সড়কপথ ব্যবহার করতে না পারলেও এখন রেলপথের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।
ভারত বাংলাদেশকে তুলনামূলক অকঠিন শর্তে রেল ও সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ঋণ দিচ্ছে। তাদের প্রদেয় এ ঋণে কী কী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় নয়াদিল্লি। ভারতের ঋণনির্ভর প্রকল্পের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য শর্ত অনুসারে এসব প্রকল্প ভারতীয় ঠিকাদারদের সম্পৃক্ত করে বাস্তবায়ন করতে হয় অথবা ভারত থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের উপকরণ কিনতে হয় অথবা ভারতের রেল বা সড়ক ট্রানজিটের জন্য প্রয়োজন, এমন অবকাঠামো নির্মাণে তা ব্যবহার করতে হয়। 
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ভারত থেকে বাংলাদেশ যে ঋণ পাচ্ছে সেটি কোনো অনুদান নয়। এ ঋণ সুদসহ ফেরত দিতে হবে। ফলে যেকোনো বিদেশী ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেভাবে জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার দিতে হয়, এ ক্ষেত্রেও অবশ্যই তাই করতে হবে। বাংলাদেশের রেল উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে অর্থনৈতিকভাবে কোনটি দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে সেটি। তা না করে ভারত থেকে ঋণ নিয়ে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক তৈরিতে এই অর্থ ব্যবহার করা হলে তা থেকে কোনো লাভ বাংলাদেশের হবে না। বাংলাদেশ যদি সার্বিক বিবেচনায় ভারতকে রেল ট্রানজিট দিতে চায়, তাহলে এর নেটওয়ার্ক থেকে যে দেশ যতটা লাভবান হবে, সেই সমীক্ষা করেই এর ব্যয় বহন করা উচিত। পৃথিবীর কোথাও এ দৃষ্টান্ত নেই যে, এক দেশ অন্য দেশের সুবিধার জন্য নিজের অর্থ খরচ করে অবকাঠামো তৈরি করে দেয়। বাংলাদেশ কেন এর ব্যতিক্রম হতে যাবে?

সম্পাদকীয়